
অপরাধমূলক মানহানির মামলায় আগেও একবার রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি পদ ফিরে পান। এবার আবারও তাঁর সদস্যপদ বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবার দলের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ঘোষণা করেন, রাহুলের বিরুদ্ধে তিনি ‘সাবস্ট্যান্টিভ মোশন’ আনছেন।
দুবের অভিযোগ, লোকসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল ধারাবাহিকভাবে দেশবিরোধী মন্তব্য করছেন এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। এত কিছুর পরও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়া উচিত নয় বলেই মত বিজেপি সাংসদের। এ দিন প্রস্তাব জমা দিয়ে নিশিকান্ত দুবে বলেন, “আমি লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রস্তাব জমা দিয়েছি। জর্জ সোরসের মতো দেশবিরোধী শক্তির মদতে এই সদন থেকে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করেছেন তিনি। সবটাই দেশের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশে। আমার দাবি, রাহুলের সাংসদ পদ বাতিল করা হোক। এবং আজীবন যেন তাঁকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়া না হয়।” পাশাপাশি তিনি জানান, এই প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, বাজেট অধিবেশন শুরুর পর থেকেই কেন্দ্রকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চাপে রাখছেন বিরোধী দলনেতা। প্রথমে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। পরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও সরব হন। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, “আপনার ভারতকে বেঁচে দিয়েছেন, আপনাদের লজ্জা হয় না? আপনারা আমাদের মা, ভারত মাতাকে বিক্রি করেছেন। আপনারা আমেরিকার কাছে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করেছেন। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে চলে গিয়েছে, আত্মমর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে কৃষক স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, “যদি ইন্ডিয়া জোট সরকার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করত, তাহলে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলত, ভারতকে সমান মর্যাদা দিতে হবে।” পাশাপাশি নারাভানের বইয়ের উল্লেখ টেনে সরকারকে ক্রমাগত কটাক্ষ করছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্যের পর থেকেই বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দলের একাংশের মতে, সংসদে দাঁড়িয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেউ কেউ প্রিভিলেজ মোশন আনার কথাও বলেন। তবে সেই পথ না নিয়ে সরাসরি রাহুলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবিতে এগোলেন নিশিকান্ত দুবে।



