
২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলির জন্য বড় ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন যদি তাঁদের গোষ্ঠীকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে দলের তহবিল থেকেই প্রতি মাসে দেওয়া হবে এই আর্থিক সাহায্য। জেনে নিন বিস্তারিত।
একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোড়ন। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গর্জন, অন্যদিকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাল্টা কর্মসূচী। কিন্তু সব বিতর্ককে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় ঘোষণা—১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কিন্তু এই বিপুল টাকার সংস্থান কীভাবে হবে? মঞ্চ থেকেই তার হিসাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন :: বড় খবর: পঞ্চায়েতে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের বিরাট ঘোষণা! এবার বদলে যাচ্ছে পুরো নিয়ম
📌 আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি পেলেই শুরু টাকা দেওয়া: ঋতব্রত
গান্ধী মূর্তির পাদদেশের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, আসল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক এবং যাবতীয় দলীয় ফান্ডের ওপর অধিকার পাওয়ার লড়াই এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনে।
“আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ পূর্ণ বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছি। আমরা আশাবাদী, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসই জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম ফেরত পাবে।” — ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের রায় তাঁদের পক্ষে গেলেই দলের প্রথম জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সিলমোহর পাবে।
💰 কোথা থেকে আসবে এই মাসিক ১০ হাজার টাকা?
প্রতি মাসে শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে অঙ্কের হিসেব তুলে ধরে ঋতব্রত বলেন:
দলের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট: এই সহায়তা রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই দেওয়া হবে।
তহবিলের সঠিক ব্যবহার: ঋতব্রতর দাবি, দলের কাছে যে বিপুল অর্থ রয়েছে, তার আসল হকদার এই শহিদ পরিবারগুলিই।
ক্যালকুলেশন তৈরি: তিনি জানান, পুরো বিষয়টির গাণিতিক হিসাব বা ‘অঙ্ক’ কষে দেখা হয়েছে এবং দলীয় ফান্ড থেকে প্রতি মাসে এই টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব।
🏛️ কমিশন রিপোর্ট ও শুভেন্দু অধিকারীর বয়ান: ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেব
এই ঘোষণার পেছনে গতদিনের রাজ্য বিধানসভার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সূত্রপাত রয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় ‘সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন’-এর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে জানান:
কমিশনের সুপারিশ: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল তদন্ত কমিশন।
আগের সরকারের ভূমিকা: তৎকালীন তৃণমূল সরকার শহিদ পরিবারদের মাত্র ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের আশ্বাস: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানান, শহিদ পরিবারগুলি আবেদন জানালে কমিশন নির্ধারিত পূর্ণ আর্থিক সাহায্য দিতে রাজ্য সরকার প্রস্তুত।
শুভেন্দুর এই বক্তব্যের ঠিক পরদিনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মাসিক ১০ হাজার টাকার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।



