
শরীরে দীর্ঘ দিনের একটা অপরিচ্ছন্ন জামা। ছোট একটা ওড়না জড়ানো। বসেছিলেন নদীয়ার রানাঘাটের রেল স্টেশনে। দেখে ভবঘুরে কিংবা পাগলী বললেও হয়তো ভুল হবে না। গুন গুন করে গান গাইছিলেন। এক ব্যক্তির কানে ভেসে আসে সেই সুর। সঙ্গে সঙ্গে নিজের মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করেন সেই গান। আপলোড করে ফেলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। গান শুনে সবার চক্ষু চড়কগাছ। অবিকল লতা মঙ্গেশকর। তবে দেখতে নয় গানের সুরে গলার আওয়াজে। নিমিষে ভাইরাল হয়ে যায় গোটা দুনিয়ায়।

ওই ভবঘুরের নাম রানু মারিয়া মন্ডল। বয়স ৫৫। বর্তমানে সে নদীয়ার রানাঘাট থানার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বেগোপারা বাড়িতে একাই বসবাস করেন। জন্ম নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। ৯ বছর বয়সে মামার সঙ্গে রানাঘাট পাড়ায় চলে আসেন। ছোট থেকেই গানের আগ্রহ ছিল তার। নিজে নিজে একাই বসে বাড়িতে গান করতেন। স্বপ্ন ছিল বড় গায়িকা হওয়ার। পরিবারের তরফ থেকে কোন উৎসাহ না পাওয়ার দিনে দিনে লুপ্ত হতে থাকে প্রতিভা। রানু দেবীর বিয়ের পর তার স্বামী তাকে ছেড়ে বম্বে চলে যায়।
তখন থেকে একা হয়ে পড়েন তিনি। পাউরুটি বেঁচেই সংসার চালাতেন নিজেই। রানু দেবীর একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে। তারাও বাবার সঙ্গে বম্বে থাকেন। কোন রকমের সংসার চালান তিনি। মানুষকে স্পর্শ করেছে রানু দেবীর পরপর গাওয়া এক একটি খালি গলায় গান গেয়ে। রানু দেবী চাইছেন তাকে কেউ যদি কোনো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তিনি আগামী দিনে আরো ভালো করে মানুষের কাছে গান পরিবেশন করতে পারবেন।
এই হচ্ছে ভাগ্য মানুষের জীবন কখন যে বদলায় কোন ভাবেই বলা যাবে না দেখতে দেখতে রানী চলে গেলেন মুম্বাইয়ে সেদিন আপনারা অনেকেই অতীন্দ্র সাথে দমদম এয়ারপোর্টে দেখেছেন রানু দি কে, কিন্তু সরাসরি যে হিমেশ রেশমিয়ার গানে প্লেব্যাক করবেন সেটা কেউ ভাবতে পারেনি দেখুন তার এক ঝলক ভিডিও



