
নিঃশব্দে একের পর এক সাহায্য করে চলেছেন সলমন খান। কখনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দিন আনে দিন খায় মানুষকে সাহায্য করছেন, কখনও আবার দরিদ্রের সেবায় পাঠাচ্ছেন ত্রাণ। রবিবারই মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বাবা সিদ্দিকি জানান, ভাইজানের নির্দেশে প্যাকেট করা চাল, ডাল-সহ অত্যাবশকীয় ত্রাণসামগ্রী কিন্তু ট্রাকে করে পৌঁছে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির দুস্থ মানুষগুলির বাড়িতে। এবার মালেগাঁওয়ের ৫০ জন সহায় সম্বলহীন মহিলা শ্রমিকের দায়িত্ব নিলেন সলমন।
করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ের মালেগাঁওয়ে আটকে পড়েছেন প্রায় ৫০ জন মহিলা শ্রমিক। তাঁদের মধ্যেই একজন ফোন করে সলমনের অফিসে গোটা ঘটনাটি জানান।
সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি অভিনেতা। তিনি জানিয়ে দেন, মালেগাঁওয়ের ওই ৫০ মহিলা শ্রমিকের ভার তাঁর। বিয়িং হিউম্যানের তরফ থেকে তাঁদের সাহায্য করা হবে। সলমনের ম্যানেজার জানিয়েছে, দুস্থদের পাশে সবসময় থাকেন ভাইজান। এর আগেও তার প্রমাণ মিলেছে। এই মুহূর্তে অভিনেতার গোটা টিম এই সময় গ্রাউন্ড রিসার্চ করছে। যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি যাতে দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ২১ দিনের লকডাউনের কথা ঘোষণা করেন প্রধাননমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউনে সমস্যায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন দিন আনে দিন খায় মানুষরা। বিনোদনের দুনিয়াতেও এমন মানুষের অভাব নেই। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি টেকনিশিয়ান-সহ অনেকেই দিনমজুর। তাই প্রথম দিন থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভাইজান। ইন্ডাস্ট্রির ২৫ হাজার মানুষের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
শুধু কি তাই? লকডাউন পিরিয়ডে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের খাওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। নিজের বাড়ির হেঁশেলের রান্না করা খাবার পৌঁছচ্ছে তাঁর আবাসনের সমস্ত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে। এছাড়া কাজ বন্ধ হলেও ‘রাধে’র সমস্ত শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনের মজুরি হিসেবে টাকা ঢুকে যাচ্ছে তাঁদের অ্যাকাউন্টে।
এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বাবা সিদ্দিকি জানিয়েছেন, সলমনের নির্দেশে ট্রাক ভরতি চাল, ডাল-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে যাচ্ছে শহরের দুস্থ মানুষের কাছে।
সলমন যে নানারকম সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত কিংবা ভিন্ন সময়ে ভিন্ন প্রেক্ষিতে একাধিকবার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অসহায়দের ত্রাতা হিসেবে ধরা দিয়েছেন, সেকথা সবাই জানেন। সলমনের ‘বিইং হিউম্যান’ (Being Human) সংস্থাও বহু দুস্থদের পড়াশোনা, ওষুধপাতির দায়িত্ব নিয়েছে। এবার করোনার জেরে আবারও তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে কেন তিনি বলিউডের ‘ভাইজান’।
সুত্র: সংবাদ প্রতিদিন



