রাজ্য

ঝড়-জলের রাতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ছুটল গাড়ি, হাজারি বাড়ির পোষ্যের প্রাণ বাঁচালেন চিকিত্‍সক

ঝড়-জলের রাতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ছুটল গাড়ি, হাজারি বাড়ির পোষ্যের প্রাণ বাঁচালেন চিকিত্‍সক - West Bengal News 24

 

হুগলি: মাস দুয়েক আগে সন্তানসম্ভবা হয় ডেইজি। তখন সবকিছুই স্বাভাবিক। করোনার থাবা আর তা রুখতে লকডাউন পরিস্থিতির ছায়াও পড়েনি। তাই ডেইজির সন্তান আসছে এই খবরে সাড়া পরে গিয়েছিল ব্যান্ডেলের বনমসজিদতলার হাজারি বাড়িতে। প্রথম পর্যায়ে একুশ দিনের লকডাউন চিন্তায় রেখেছিল গোটা পরিবারকে। দ্বিতীয় পর্বের লকডাউন ঘোষণা হতেই আশঙ্কার মেঘ গাঢ় হল। এই সময়ের মধ্যেই যদি প্রসব হয় ডেইজির! যদি অস্বাভাবিক কিছু হয়! চিন্তায় কাঁটা হয়েছিল গোটা পরিবার।

সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। সোমবার জল ঝড়ের রাতে শাবক প্রসব করতে শুরু করে ডেইজি। টেলিফোনে চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেন হাজারি বাড়ির লোকজন। একে একে সাতটি শাবকের জন্ম দিয়ে হাঁপিয়ে পরেছিল সে। আর স্বাভাবিক প্রসব করতে না পেরে নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে ক্রমশ। বাড়ির লোকজন বুঝে যান তাঁর অবস্থা সংকটজনক। ডেইজির পেটে তখনও আরও কয়েকটি বাচ্চা। প্রসব করাতে না পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
পশু চিকিত্‍সক থাকেন ব্যারাকপুরে।

টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন হাজারি পরিবারের সদস্যরা। অবস্থা বুঝতে পেরে তিনি বলেন, ”সিজার করতে হবে। দেরি করা যাবে না।” কিন্তু হুগলি থেকে উত্তর ২৪ পরগণা যাওয়ার উপায়? চুঁচু্ড়া থানা থেকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে গাড়ি ছুটল ব্যারাকপুরের দিকে। রাস্তায় বার তিনেক পুলিশের চেকিংয়ের মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের। বাড়ির সদস্য সৌষ্ঠব হাজারি বলেন, ”গাড়ির মধ্যে ডেইজির অবস্থা দেখে প্রতিবারই আমাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ জন্য আমরা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।

ব্যারাকপুরে চিকিত্‍সক ডেইজির সিজার করেন। কিন্তু ততক্ষণে ওর পেটে থাকা তিনটি শাবকেরই মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিত্‍সক জানান, ডেইজি বিপদমুক্ত। কিন্তু নিয়মিত শুশ্রূষা করতে হবে তার। এদিকে বাড়িতে থাকা দুগ্ধপোষ্যদের দুধ না খাওয়ালে বাঁচানো যাবে না। তাই বাড়িতে নিয়ে এসে স্যালাইন চালানো হয় ডেইজির।” চার বছর আগে বনমসজিদতলার হাজারি বাড়িতে যখন ডেইজি এসেছিল, তখন সেও এক ছোট্ট ছানা। বাড়ির সবাই আদরের ল্যাবরাডরটির নাম রেখেছিলেন ডেইজি।ঝড়-জলের রাতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ছুটল গাড়ি, হাজারি বাড়ির পোষ্যের প্রাণ বাঁচালেন চিকিত্‍সক - West Bengal News 24

প্রভু পোষ্যের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে সেও হয়ে ওঠে পরিবারের একজন সদস্য। করোনার দাপটে চারিদিকে ভয়ের আবহ। অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় মন খারাপ গোটা বিশ্বের। তখন ব্যতিক্রম ব্যান্ডেলের হাজারি পরিবার। সেখানে মঙ্গলবার শুধুই আনন্দ। ডেইজির সাতটি শাবক নিমেষে বদলে দিয়েছে গোটা বাড়ির পরিবেশ।

সুত্র:THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button