কংসাবতী খালের ওভারহেড পাড় ভেঙে বানভাসি এলাকা

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: রেলের আন্ডারপাসের উপরে কংসাবতী ক্যানালের পাড় ভেঙে বানভাসি হল ঝাড়গ্রামের ঝাড়াগেড়িয়া এলাকা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যানেলের ওভারহেড গার্ডওয়ালে ফাটল ধরে যায়। প্রবল বেগে জল ঢোকে এলাকায়। এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। ঝাড়গ্রাম শহরের উপকন্ঠে ঝাড়াগেড়িয়া গ্রামীণ এলাকায় ঝাড়গ্রাম-টাটা রেল পথের উপরে রয়েছে কংসাবতী মেন ক্যানেলটি।
ওই এলাকায় ক্যানেলের আন্ডার পাস দিয়ে ট্রেন যাতায়াত করে। কংক্রিটের আন্ডারপাসের উপর দিয়ে ক্যানেলটি প্রবাহিত। টাটা-খড়্গপুর তৃতীয় লাইনের জন্য ক্যানেলের আর একটি আন্ডার পাস তৈরি করা হয়েছে। নিম্নচাপের বৃষ্টির জন্য কংসাবতী ক্যানেলে এক হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন আন্ডার পাসের একাংশে ফাটল ধরে গিয়ে প্রবল বেগে জল ঢুকে যায় লোকালয়ে।
[ আরও পড়ুন: সুশান্তের পোস্টমর্টেমে উপস্থিত ছিলেন রিয়া, গোপন ভিডিও ফাঁস! ]
রাতে স্থানীয়রা জমিদারডাঙা যাওয়ার রাস্তা কেটে জল বের করার পথ তৈরি করে দেন। কংসাবতী সেচ দফতর থেকে ক্যানেলের জল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেচ দফতরের দাবি, নির্মাণগত ত্রুটির কারণে ঝাড়াগেড়িয়ায় কংসাবতী ক্যানেলে জলের চাপে সদ্য তৈরি হওয়া ওভারহেড ও বেড গার্ডওয়াল ভেঙে গিয়ে প্রবল বেগে জল বেরিয়ে যায়।

তার জেরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম শহরের উপকন্ঠে গ্রামীণ এলাকার ঝাড়াগেড়িয়ায় বানভাসি পরিস্থিতি হয়। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার প্রায় দুশো বিঘে চাষের জমি জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। ঝাড়াগেড়িয়ার নিচুপাড়ায় ৮টি আদিবাসী পরিবারের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালে এলাকায় যান যান ঝাড়গ্রামের বিডিও অভীজ্ঞা চক্রবর্তী ও ঝাড়গ্রাম থানার আইসি পলাশ চট্টোপাধ্যায়।
বাসিন্দাদের খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক বিলি করা হয়। এলাকায় জল-কাদা থইথই অবস্থা। দুপুরে স্থানীয় কমিউনিটি হলে ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকাবাসীদের খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা হয়। প্রশাসন সময়মতো ক্যানেলে জল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়ায় ঝাড়াগেড়িয়া নিচুপাড়া, জমিদারডাঙার মতো গ্রামগুলি বেঁচে গিয়েছে। কীভাবে এমন হল? রেলের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, তৃতীয় লাইন বসানোর জন্য মার্চ থেকে জুলাই ৫ মাস ধরে নতুন ওভারহেড গার্ডওয়াল ও বেড গার্ডওয়াল তৈরি করা হয়েছে।
[ আরও পড়ুন: এবার বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে জঙ্গলে অক্ষয় কুমার, জেনেনিন বিস্তারিত ]
কাজটি রেলের তরফেই হয়েছে। কীভাবে এমন হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কংসাবতী প্রকল্পের ক্যানেলের জল আসে বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর থেকে। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি, লালগড়, জামবনি, ঝাড়গ্রাম, সাঁকরাইল এলাকা হয়ে ক্যানেলটি খড়্গপুরের দিকে গিয়েছে। চাষের মরসুমে জল ছাড়া হয় প্রতি বছর। গত মঙ্গলবার জল ছাড়া হয়েছিল ১ হাজার কিউসেক।

সেই জল ঝাগাগেড়িয়ায় ওভারহেড দিয়ে যাওয়ার সময়ে জলের চাপে লের পথের উপরের একধারে গার্ডওয়াল ভেঙে গিয়ে জল বেরোতে থাকে। তবে রেল লাইনের কোনও ক্ষতি হয়নি। জল একপাশ দিয়ে তোড়ে প্রবাহিত হয়ে চাষজমি ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। রেলের কাজের ত্রুটির জন্য এমন দুর্ভোগ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
[ আরও পড়ুন: ভাইরাল মহেশ-রিয়ার ৮ জুনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ]



