ঝাড়গ্রাম

এবার ঝাড়গ্রাম জেলার ‘শিক্ষারত্ন’ বাণীপদ পাত্র

এবার ঝাড়গ্রাম জেলার ‘শিক্ষারত্ন’ বাণীপদ পাত্র - West Bengal News 24

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: এ বছর ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে একমাত্র ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান পাচ্ছেন গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ধানশোল আদিবাসী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বাণীপদ পাত্র। ৫৮ বছরের বাণীপদবাবুর বাড়ি গোপীবল্লভপুরের ছাতিনাশোল গ্রামে। বিজ্ঞানের স্নাতক ও ইতিহাসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত তিনি।

এলাকার আদিবাসী পড়ুয়াদের কাছে এই স্কুলটি এখন যেন ‘স্বপ্নপুরী’। অথচ আগে এ রকম কিন্তু ছিল না। খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির স্কুল বাড়ির জায়গায় এখন মাথা তুলেছে তিন তলা পাকা স্কুল ভবন। এ জন্য বাণীপদবাবুর কৃতিত্বও কম নয়।

১৯৮২ সালে এই স্কুলে সহশিক্ষক পদে যোগ দেন বাণীপদবাবু। ১৯৯৪ সাল থেকে স্কুলের প্রধানশিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। আশির দশকে বাণীপদবাবু প্রথম যখন সহ-শিক্ষক পদে যোগ দেন তখন স্কুলটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়র হাইস্কুল ছিল। তিনি প্রধানশিক্ষক হওয়ার পরে এলাকার আদিবাসী পড়ুয়াদের স্বার্থে শিক্ষা দফতরে বহু আবেদন নিবেদন করে ১৯৯৯ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত হাইস্কুলের অনুমোদন আদায় করেন।

আরও পড়ুন : শিক্ষকতা ছেড়ে সাংবাদিকতা করেছিলেন প্রণব মুখার্জি

এর পরে ২০১১ সালে স্কুলটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। উচ্চ মাধ্যমিকস্তরে কলাবিভাগ আছে কেবল। এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যম ও সাঁওতালি মাধ্যম রয়েছে। স্কুলে রয়েছে বৃত্তিমূলক শাখাও। এই শাখায় ইলেকট্রিক্যাল হাউজ অয়্যারিং, মোটর হুইলার রিপিয়ারিং এবং সিভিল কনস্ট্রাকশন নিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

এবার ঝাড়গ্রাম জেলার ‘শিক্ষারত্ন’ বাণীপদ পাত্র - West Bengal News 24

স্কুলে রয়েছে ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক দু’টি দোতলা হস্টেল। সেখানে সরকারি অনুদানে নিখরচায় থেকে পড়াশোনার সুযোগ পায় আবাসিক পড়ুয়ারা। স্কুলের মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৫৪১ জন। এর মধ্যে সাঁওতালি মাধ্যমে পড়ে ১০৬ জন। স্কুলের মোট পড়ুয়ার প্রায় ৯০ শতাংশই আদিবাসী। বাণীপদবাবু ও সহশিক্ষক-শিক্ষিকারা মিলে স্কুলটিকে সেরা স্কুল হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

স্কুলটি প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত। রয়েছে পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা। স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞানশাখা চালু করার দাবিও রয়েছে এলাকায়। বাণীপদবাবু বলেন, ‘‘অবসর নেওয়ার আগে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান শাখা চালু যাতে হতে পারে সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।

আরও পড়ুন : বলিউড নিয়ে জন আব্রাহাম যা বললেন

” অবসর নেওয়ার আগে এই কাজটিই বাকি রয়েছে। এজন্য শিক্ষা দফতরে আবেদন-নিবেদন করে চলেছেন তিনি। শিক্ষারত্ন সম্মান প্রাপ্তিতে তিনি বলছেন, ‘‘এই সম্মান আমার একার নয়। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত দেবনাথ হাঁসদা, প্রাক্তন সম্পাদক ভগানচন্দ্র হাঁসদা, স্কুলের প্রতিটি পড়ুয়া, তাদের অভিভাবক, স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকাবাসীর পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্যই আমার এই সম্মান প্রাপ্তি।”

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button