
নিজস্ব প্রতিনিধি: বড়ই বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো। তাঁকে গ্রেফতার জন্য বিশেষ আদালতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। শুধু তাই নয়, গ্রেফতারি এড়ানোর জন্য ছত্রধরকে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রাম জেলার সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধার বিরুদ্ধে।
যা কি-না সরসরি রাষ্ট্রদোহিতায় মদত দেওয়া বলে মনে করছে এনআইএ সূত্র। ছত্রধরের করোনা-রিপোর্ট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রকাশকে চিঠি দিয়ে তলব করেছে এনআইএ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাজার মেয়াদ কমায় জেল থেকে মুক্তি পান ছত্রধর।
যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে। তাঁকে রাজ্য সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। পদ পেয়েই তৃণমূলের দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিচ্ছিলেন ছত্রধর। এদিকে, এগারো বছর আগে লালগড়ের ধরমপুরের এক সিপিএম কর্মীর খুনের মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।
ওই মামলার ২৭ জন অভিযুক্তর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত ছত্রধর। এর আগে কয়েক দফায় শালবনির কোবরা ক্যাম্পে ছত্রধরকে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারেরা। কিন্তু জেরায় ছত্রধর সহযোগিতা না করায় তাঁকে হেফাজতে নিতে চায় এনআইএ।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছত্রধরকে তলব করেছিল এনআইএ’র বিশেষ আদালত। ছত্রধর সেদিন কলকাতা গেলেও ‘অসুস্থতার’ পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে ফিরে যান। ২৮ সেপ্টম্বরও তিনি আদালতে হাজির হননি।
আরও পড়ুন: বাম-কংগ্রেস জোটের মুখ হতে পারেন অধীর চৌধুরী
জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছত্রধরের করোনা পরীক্ষা হয়েছিল। তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ। তিনি করোনায় আক্রান্ত। ২৮ সেপ্টেম্বর ছত্রধরের আইনজীবী সেই রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করছেন এনআইএ’র আধিকারিকেরা।
এরপরেই তাঁরা ছত্রধরকে সহায়তা করার অভিযোগ তুলে ঝাড়গ্রামের সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধাকে এনআইএ নোটিস পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তের স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেডিক্যাল বোর্ডের সমস্ত নথি এনআইএ’কে জমা দিতে বলা হয়েছে সিএমওএইচকে। কীভাবে করোনা পরীক্ষা হয়েছিল।
কোন চিকিৎসক নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, কোন মাইক্রোবায়োলজিস্ট রিপোর্ট লিখেছিলেন। সমস্ত তথ্য তলব করা হয়েছে। এদিকে, গত শুক্রবার এনআইএ-র দুই অফিসার ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটিতে গিয়ে হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রনীল সরকারকে টানা জেরা করেন।
সেইসঙ্গে মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা. অমিয়কুমার পণ্ডিতকেও জেরা করেন এনআইএ অফিসারেরা। হাসপাতালের যে জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্ট ছত্রধরকে করোনা পরীক্ষার ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকেও দফায় দফায় জেরা করা হয়।
সব মিলিয়ে ছত্রধরের করোনা পরীক্ষা করে বিপাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এ বিষয়ে প্রকাশ মৃধা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি যে রীতিমতো চাপে রয়েছেন, তা তাঁর হাবেভাবেই স্পষ্ট।
শনিবার থেকে স্বাস্থ্য দফতরের সব কর্মী, চিকিৎসক ও আধিকারিকদের ছুটি বাতিল হলেও প্রকাশ কলকাতায় বাড়িতে চলে গিয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, সিএমওএইচ এবং অমিয়কুমার পণ্ডিতের ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



