কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আগামী ২৬-শে ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়ে সি,আই,টি,ইউ

কেন্দ্রীয় সরকারের মানুষ মারা কালা আইনের বিরুদ্ধে আগামী ২৬-শে ধর্মঘট সফল করার আহ্বান জানিয়ে সি,আই,টি,ইউ খেজুরি ও হেঁড়িয়া রিজিওনাল কমিটির ডাকে শ্রমিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হলো হেঁড়িয়া ও কুঞ্জপুরে সুকুমার সেনগুপ্ত ভবনে।
হেঁড়িয়া কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা সুব্রত ঢালী এবং কুঞ্জপুরে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা অতুল্য উকিল। দুইটি সভাতে প্রধান বক্তা ছিলেন সি,আই,টি,ইউ জেলা সম্পাদক ও রাজ্য কাউন্সিল নেতা কাঞ্চন মুখার্জি।
তিনি বলেন কেন্দ্রের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সারাদেশ সহ বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে মানুষের উপর ভয়ঙ্কর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। সংবিধানের অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার খর্ব করছে। দেশী-বিদেশী কর্পোরেটদের কাছে দেশ ও দেশের সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছে।
বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও এই সময়ে মাথাপিছু ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য অসহায় মানুষদের না দিয়ে গুদামে পচিয়ে অ্যালকোহল তৈরি করছে কিন্তু এই দুঃসময়ে আমাদের দাবি ছিল, প্রতি পরিবারে মাথাপিছু ১০কেজি চাল এবং পরিবারপিছু ৭৫০০ টাকা অনুদান দিতে হবে কিন্তু এ কাজ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কেউ করছে না।
মানুষের হাতে কাজ নেই, খাদ্য নেই, অসহায় অবস্থায় মানুষ এই অতিমারির হাত থেকে বাঁচার মত কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে, তাতে করে কেন্দ্র রাজ্য দুই সরকারের টনক নড়ছে না। এর হাত থেকে বাঁচতেএকমাত্র উপায় লড়াই আন্দোলন, প্রতিবাদ, প্রতিরোধে ব্যাপক অংশের মানুষের জোট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সামিল হতে হবে।
আরও পড়ুন: কোলাঘাটে বিজয়া উৎসবে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি
সরকারের নীতি বদলাতে একসঙ্গে পথে নামতে হবে। আসুন আগামী ২৬ শে নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট সফল করার জন্য গ্রামে গ্রামে সভা, মিছিল, অঞ্চলে অঞ্চলে সাইকেল মিছিল, ব্লকে ব্লকে ডেপুটেশন, এবং ২৪ শে নভেম্বর জেলার সর্বত্র মশাল মিছিল, ২৫ শে নভেম্বর মানুষকে নিয়ে রাত্রিকালীন অবস্থান এবং ২৬ শে নভেম্বর সকাল-সকাল পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে সবকিছুকে স্তব্ধ করে দিতে হবে ।
খেজুরীর মানুষ দীর্ঘদিন অত্যাচার, অন্যায়, খুন, সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে বেঁচে আছেন কিন্তু শত্রুর কাছে মাথানত করেনি। এখন খেজুরির মানুষ জাগছেন। সব অংশের মানুষকে নিয়ে ছোট-বড়,মিছিলের মাধ্যমে সমবেত করছেন। খেজুরির গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র এই সাধারণ ধর্মঘট কে নিয়ে প্রচার মিছিল সংগঠিত করতে করুন।
এই ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে সরকারের কালা আইন এবং জনস্বার্থবিরোধী নীতি পরিবর্তন করতে হবে। দুটি কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা গোকুল ঘোড়াই, প্রদীপ মণ্ডল, মৃন্ময় মাইতি প্রমুখ নেতৃত্বগন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকা সত্বেও শ্রমিক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।



