‘দুয়ারে ত্রাণ’, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

২০২০ সালে ‘আম্ফান’ সুপার সাইক্লোনের প্রভাবে রাজ্য লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আর সেই পরিস্থিতি সামলাতে ও মানুষকে সাহায্যে করতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ি ভাঙাদের ছাদ করতে, ত্রাণ কাজে ত্রিপল ও চাল-ডাল সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত-এর মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া করেন মমতা। কিন্তু তাতেই সার হয়, দিকে দিকে ত্রিপল চুরি, ত্রাণের চাল চুরি ও ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ঝেপে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়।
পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে ২১-এর ভোটে ইস্যু করতে রাস্তায় নামে বিজেপি। তাই সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়ে এবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে বাড়িতে পরিষেবা দেওয়ার ঘোষণা মমতার। এদিন নবান্নে ‘যশ’ পরবর্তী রিভিউ মিটিং বসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ‘দুয়ারে ত্রাণ’ প্রকল্পের। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে বাড়িতে ত্রিপল, চাল-ডাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ত্রাণ নিয়ে যাতে আর বিক্ষোভ বা চুরির ঘটনা না সৃষ্টি হয় তাই এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরই সঙ্গে এদিন তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন গ্রহণ করা হবে ও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ ও স্ক্রুটিনি করে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মূলত গত বছরেই ‘আম্ফান’ ক্ষতিপুরণ দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসে। কাটমানি নেওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ অন্য কাউকে পাইয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে যার জেরে ভাবমূর্তী খারাপ হয় রাজ্যের। তাই এবারে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘যশ’ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক প্যাকেজ না পাওয়ায় কেন্দ্রের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে এই প্রসঙ্গ তুলবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র : এই মুহুর্তে



