বাংলায় ১৫ হাজার কোটির ক্ষতি! ‘নবান্নে বসে উনি জানলেন কী করে? প্রশ্ন দিলীপের

রাজ্যের ইয়াস (Cyclone Yaas)-সতর্কতায় নেওয়া ব্যবস্থা নাকি খুশি করেছিল তাঁকে। যদিও সেই দাবি তাঁর নয় বলে ট্যুইটারে জানিয়ে দিয়েছেন BJP-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর এবার রাজ্যের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গ নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।
এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমরা যা হিসেব করেছি, তাতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে আমাদের।’ তার ঠিক পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ‘যতটা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা হয়নি পশ্চিমবঙ্গে।
কিন্তু, তারপরও মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উনি নবান্নের ১৪ তলায় বসে এই হিসাব পেলেন কীভাবে? পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব বলে দেওয়া সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসেব নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, আমফান (Cyclone Amphan) থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। তাই ইয়াসের (Cyclone Yaas) ক্ষেত্রে আর ‘ভুলের’ পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। সেই সূত্রেই ইয়াসের ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণ বণ্টনের রাশ নিজের ও প্রশাসনের হাতেই রাখছেন তিনি। নবান্ন থেকে টানা প্রায় দু’দিন নিজে কন্ট্রোলরুমে থেকে ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা বুঝে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই জানিয়ে দিয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই গোটা রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসেব হাতে চলে আসবে তাঁর। তবে, এখনই বলে দেওয়া যেতে পারে, ইয়াসের প্রভাবে বাংলার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
আমফানের সময় রাজ্যে ত্রাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। ত্রাণ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। যা ভোটের প্রচারেও তীব্রভাবে ব্যবহার করেছিল BJP।
তাই এবার ইয়াসে সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি আর চান না মুখ্যমন্ত্রী। ‘দুয়ারে সরকার’, তারপর ‘দুয়ারে রেশন’-এর আদলে এবার তাই ‘দুয়ারে ত্রাণ’ বিলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, ‘আবার না ত্রাণ নিয়ে তৃণমূল নেতারা নিজেদের পকেট ভরেন। যারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন তাঁদের সকলের নাম বিডিও অফিসের বাইরে লাগিয়ে রাখতে হবে।’
এদিন অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ১৮ জুন ‘দুয়ারে ত্রাণ’ শিবিরে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন জমা নেওয়া হবে। এবার আর কারও মাধ্যমে নয়, যিনি ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁকেই সরাসরিই আবেদন করতে হবে। ১৯ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হবে। তারপর ১ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পেয়ে যাবেন।’
তবে, রাজ্যের বাঁধ পরিস্থিতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। এদিন ফের তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। সুন্দরবন অঞ্চলে ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর কথা থাকলেও কেন তা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সূত্র : নিউজ ১৮



