বর্ধমান

বেইমান গদ্দার সুনীল মণ্ডলকে ফেরত চাই না! পোস্টারে ছয়লাপ বর্ধমানে, পাশে নেই বিজেপি

বেইমান গদ্দার সুনীল মণ্ডলকে ফেরত চাই না! পোস্টারে ছয়লাপ বর্ধমানে, পাশে নেই বিজেপি - West Bengal News 24

তিনি ফিরতে চান। হতে পারে সেটা তাঁর সাংসদ পদ বাঁচানোর কৌশল, নাহলে তাঁর সত্যিই বোধগম্য হয়েছে যে বিজেপি দলটা করা যায় না। তবে তিনি যাই ভেবে থাকুন না কেন, বাস্তব সত্য আপাতত এটাই না তৃণমূল তাঁকে ফেরাতে চাইছে না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁকে দলে ফিরে পেতে চাইছেন। বরঞ্চ সময় যত গড়াচ্ছে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায় দিকে দিকে পড়ছে পোস্টার। তাতে লেখা থাকছে শুধু একটাই কথা, ‘বেইমান গদ্দার সুনীল মণ্ডলকে আমরা ফেরত চাই না।’

হ্যাঁ পূর্ব বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ যিনি শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে একুশের ভোটের ঠিক আগেই গেরুয়া শিবিরে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি এখন তৃণমূলে ফিরতে চাইলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফেরত চাইছেন না। বরঞ্চ তাঁরাই এখন দাবি তুলেছেন, সুনীলকে যেন ফেরানো না হয়। এবার সেই দাবির পোস্টার পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার দক্ষিন সদর মহলুমার জামালপুর এলাকায়।

জামালপুরের শুড়েকালনা বাজার এলাকায় সুনীল মণ্ডলকে রাবণ সাজিয়ে ফ্লেক্স লাগিয়েছেন এলাকারই তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা। ফ্লেক্সে সুনীল মণ্ডলের মাথার একপাশে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য বিজেপির নেতারা যেমন রয়েছেন তেমনি অন্যদিকে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সহ বিজেপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

সেই ছবির নিচে বিজেপি নেতাদের ‘বাংলা ও বাঙালির শত্রু’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছবিতে লেখা রয়েছে ‘কৃষকের শত্রু, আম্বানি-আদানির কাছে দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারী বিজেপি দূর হটো। রাজনীতির ব্যাপারী, নীতি আদর্শহীন, গিরগিটি, গদ্দার সুনীল মণ্ডলের তৃণমূলে ঠাঁই নাই।’

আবার শুধু ফ্লেক্স লাগানোই নয়, রাস্তায় নেমেও সুনীলের বিরুদ্ধে এদিন বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বৃষ্টির মধ্যেই জামালপুর ব্লকের আবুঝহাটি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন চলে। আবুঝহাটি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জবা কিস্কু ও উপপ্রধান সমর পালের উপস্থিতিতে পোষ্টার হাতে‌ বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের এই কর্মী সমর্থকরা।

সুনীল মণ্ডলকে যাতে পুনরায় দলে না নেওয়া হয় তার জন্য এদিন দাবি জানান তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘দলের দঃসময়ে দলত্যাগী, দলের সুসময়ে প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক সুনীল মণ্ডলকে দলে মানছি না মানব না।’

সুনীল মণ্ডলের দলে ফেরা নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা প্রদীপ পাল বলেন, ‘বেইমান গদ্দার সুনীল মণ্ডলকে কোনও ভাবেই যেন দলে ফেরানো না হয়। যাঁকে আমরা লড়াই করে জিতিয়েছি তিনি তৃণমূল নেত্রীকে অপমান করেছেন। তাই দলের কোন কর্মীই চায় না সুনীল মণ্ডল দলে ফিরুক।’

এদিকে অন্যদিকে জামালপুর বিধানসভায় বিজেপির আহ্বায়ক জিতেন ডকাল সুনীলের দল বদলের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি নীতি-আদর্শহীন, ক্ষমতার মধু খাওয়া রাজনীতিবিদ। ভেটের আগে বিজেপি জিততে পারে, এমন হাওয়া বয়ে যাওয়ায় তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

বিজেপি জিততে না পারায় এখন উনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরার চেষ্টা করছেন।’ বস্তুত নিজ জেলা, নিজ সংসদীয় কেন্দ্রে এখন একঘরে হয়ে গিয়েছেন সুনীল। না বিজেপিতে তাঁর কোনও ঠাঁই আছে না তৃণমূলে। এরই মধ্যে এবার লোকসভার স্পিকার তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান জানার জন্য। বিজেপিও এখন আর তাঁর সাংসদ পদ বাঁচাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেননা সুনীল নিজেই বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।

পরিস্থিতি যা তাতে শিশির অধিকারীর সাংসদ পদ না গেলেও গদ্দার সুনীল তাঁর পদ হারাতে পারেন। কারন তাঁর পাশে না আছে তৃণমূল, না বিজেপি। আর বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের সব আসনেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তাই সুনীলের পদ গেলে সেই আসনে উপনির্বাচন হলে তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনাই ষোল আনা। ফলে বিজেপিও সুনীলকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না।

সূত্র : এই মুহুর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য