কলকাতায় দৈনিক ২০ হাজার ভ্যাকসিনের ঘাটতি, চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা

পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও আশা পূরণ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃতীয় তরঙ্গের আগে কলকাতাবাসীদের সুরক্ষা বাড়াতে দিনে ৫০ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি করেছে পুরসভা। কিন্তু দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ৩০ হাজার শহরবাসী টিকা পাচ্ছেন। অর্থাত্ ২০ হাজার ভ্যাকসিনের ঘাটতিতে সঙ্কটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরলেন বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘শুধুমাত্র কলকাতায় ৫০ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু টিকা পাচ্ছেন মাত্র ৩০ হাজার মানুষ। কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা সরবারহ না করায় ২০ হাজার ভ্যাকসিনের ঘাটতি রয়েছে শহরে। এমনকি শহরতলি থেকেও অনেকে এসে টিকা নিয়ে যাওয়ায়, ভোগান্তিতে রয়েছেন শহরবাসীরা। পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্র থেকে টিকার জোগান না দেওয়ায় আগামীতে আরও সমস্যায় পড়তে পারেন কলকাতাবাসী।’
কলকাতার বহু চিকিত্সকের এক বক্তব্য, শহরে ভ্যাকসিনের যা ঘাটতি দেখা দিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে টিকাকরণের চিত্রে বড়সড় বদল আসতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শহরে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরাও টিকার ডোজ পাচ্ছেন না। এমনকি ১৮ থেকে ৪৫ বছরবয়সিরা এখনও পর্যন্ত টিকার একটি ডোজও পাননি।
অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছেন, সদ্য মা হয়েছেন এমন মহিলাদের টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি। দেখতে গেলে এমন মহিলারা বেশিরভাগই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। ফলে টিকার ডোজ আদৌ তাঁরা পাবেন কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
২১ জুন থেকে দেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলে ভ্যাকসিন পাবেন বলে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ঘোষণার পরেও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টিকার ঘাটতি রয়েছে শহরগুলোতেই। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, ঘোষণার পরই টিকার ডোজ পাওয়া যাবে কি না এই নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আবার কারও পরিবারে একজন দুজন টিকার একটি ডোজ বা দুটি ডোজ পেয়ে গেলেও, ১৮ র ঊর্ধ্বে কেউ টিকা না পাওয়ায় চিন্তিত সকলেই। ঘাটতি পূরণ না হলে, কলকাতা তৃতীয় তরঙ্গের আগে চরম সঙ্কটের সম্মুখীন হবে বলেই আশঙ্কা অনেকের।
সুত্র : আজকাল



