
ঝাড়গ্রাম: মাত্র ২৪ বছর বয়স। কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের বাসিন্দা দেবাংশ আগরওয়াল বন্ধুদের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। তখন কে জানত ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসে জীবনদীপ নিভবে ওই যুবকের! হাতি দেখার জন্য অত্যুৎসাহী দেবাংশ ও তাঁর বন্ধুরা সোমবার দুপুরে গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম ব্লকের নেদাবহড়া অঞ্চলের কেঁউদিশোল জঙ্গলে।
স্থানীয় জনা তিনেক যুবককে বখশিস দিয়ে তাঁদের সঙ্গে হাতি দেখতে জঙ্গলে ঢুকেছিলেন দেবাংশ ও তাঁর দুই বন্ধু। ওই জঙ্গলে ছিল আটটি হাতির দল। হাতি দেখে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলেছিলেন দেবাংশ ও তাঁর বন্ধুরা। এমন সময় দলের একটি হাতি তেড়ে আসে তাঁদের দিকে। দুই বন্ধু ও স্থানীয় যুবকরা ছুটে পালালেও দেবাংশ পালাতে পারেননি।
ছুটতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। হাতিটি দেবাংশকে নাগালে পেয়ে পায়ে দলে পিষে মারে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েন দেবাংশের বন্ধুরা। দেবাংশের নিথর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকে জঙ্গলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বনকর্মীরা দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়ে চললেও বন দপ্তর হাতি তাড়াতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয়রা দেবাংশের দেহ তুলতে বাধা দেন।
ঝাড়গ্রামের এসডিপিও অনিন্দ্যসুন্দর ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমিত করেন। সমস্যা নিয়ে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেয় বনবিভাগ। রাতে বিক্ষোভ ওঠে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবাংশের আদি বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়া এলাকায়। সম্পন্ন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান দেবাংশ বন্ধুদের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসে উঠেছিলেন গড়শালবনির একটি ভিলেজ রিসোর্টে।
সেখানে লোকমুখে তিনি জানতে পারেন স্থানীয় জঙ্গলে হাতির পাল রয়েছে। এরপরই বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি নিয়ে হাতি দেখার জন্য দেবাংশ কেঁউদিশোল জঙ্গলে গিয়েছিলেন। কেঁউদিশোলের উপর বাঁধ এলাকায় হাতির হানায় অকালে প্রাণ হারালেন তিনি।



