ঝাড়গ্রাম

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৭৫, মার্কশিট পেল ঝাড়গ্রামের কৃতী ছাত্র

স্বপ্নীল মজুমদার

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৭৫, মার্কশিট পেল ঝাড়গ্রামের কৃতী ছাত্র - West Bengal News 24

ঝাড়গ্রাম: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল আটকে গিয়েছিল ঝাড়গ্রাম কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনের কৃতী ছাত্র শুভদীপ মাজির। এমন ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাঁধগোড়া অঞ্চলের জামশলা গ্রামের বাসিন্দা ওই পড়ুয়া।অবশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে ত্রুটি সংশোধন করে শুভদীপের ফল প্রকাশ করল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৭৫।

সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিকের আগে পরীক্ষার্থীদের এনরোলমেন্ট ফর্ম পূরণের সময় ফর্মের নির্দিষ্ট জায়গায় শুভদীপের ঠিকমতো স্বাক্ষর ছিল না। সেই কারণে সংসদের বিধি অনুযায়ী তাঁর মার্কশিটও তৈরি হয়নি। এবার যেহেতু পরীক্ষা হয়নি, তাই ফলপ্রকাশের আগে পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড পাঠানো হয়নি। সেই কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। কারণ ফর্মে ত্রুটি থাকায় শুভদীপের অ্যাডমিট কার্ডও তৈরি হয়নি।

শুভদীপ জানান, পরীক্ষায় কোনও ফল না দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। যোগাযোগ করেন স্কুলের সঙ্গে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সংসদে যোগাযোগ করেন। তখন ফল আটকে যাওয়ার কারণ জানা যায়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সংক্রান্ত ঝাড়গ্রাম জেলার উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তপনকুমার পাত্র বলেন, ‘‘এনরোলমনেন্ট ফর্মের সমস্যার জন্য ওই পরীক্ষার্থীর ফল অজ্ঞাত ছিল। সমস্যা মিটিয়ে ফল প্রকাশ হয়েছে।’’

২০১৯ সালে বাঁধগোড়া অঞ্চল বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ৬৮১ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছিলেন শুভদীপ। একাদশ-দ্বাদশ পড়ার জন্য ঝাড়গ্রাম শহরের কুমুদ কুমারী ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন তিনি। এবার পরীক্ষা না হওয়ায় সংসদের বিধি অনুযায়ী ভাল ফলের আশায় ছিলেন শুভদীপ ও তাঁর অভিভাবকরা। ফল আটকে যাওয়ায় শুভদীপের মেডিক্যাল জয়েন্ট এন্ট্রান্স দেওয়ার বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সবদিক বিবেচনা করে শুভদীপের ফল প্রকাশ করে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ৪৭৫ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন শুভদীপ।

শনিবার শুভদীপ স্কুলে গিয়েছিলেন। তাঁর হাতে মার্কশিট, অ্যাডমিট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন মান্না। তিনি বলেন, “শুভদীপের হাতে মার্কশিট তুলে দিতে পেরে আমরা খুবই খুশি।”

শুভদীপের বাবা নিত্যানন্দ মাজি চাষাবাদ করেন। ভাই সাগ্নিক বাঁধগোড়া অঞ্চল বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণীর ছাত্র। সংসার টানতে বাড়িতেই রয়েছে একটি ছোট্ট মুদির দোকান। সেটির দেখাশোনা করেন শুভদীপের মা কৃষ্ণাদেবী।

মার্কশিট হাতে পাওয়ার পরে শুভদীপ বলেন, ‘‘ক’দিন খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মার্কশিট পেয়ে বড়ই স্বস্তিবোধ করছি। মেডিক্যাল জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসব। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য