
ঝাড়গ্রাম: ঐতিহ্যের স্কুলের প্রধানশিক্ষক পদটি দু’বছরের বেশি সময় ধরে খালি ছিল। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক পদে যোগ দিলেন বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত। এদিন সকালে তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে প্রধানশিক্ষকের চেয়ারে বসিয়ে দেন সহকারি প্রধানশিক্ষক নিরঞ্জন মান্না, এতদিন তিনি টিচার-ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন। অবশেষে তিনি দায়িত্বমুক্ত হলেন।
১৯২৪ সালে ঝাড়গ্রাম রাজ এস্টেটের পৃষ্ঠপোষকতায় কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের পথচলা শুরু হয়। ২০২৩ সাল থেকেই শতবর্ষের উৎসব শুরু হওয়ার কথা। ঝাড়গ্রাম জেলার এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলে বিশ্বজিৎবাবুর বাবাও একসময় শিক্ষকতা করেছেন। বিশ্বজিৎবাবুও কুমুদকুমারীর প্রাক্তনী। তিনি আগে পড়িহাটি প্রগতি সংঘ হাইস্কুলের (এইচএস) প্রধানশিক্ষক ছিলেন। বাড়ির কাছে আসার জন্য তিনি রাজ্য সরকরের ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালে উপযুক্ত নথি সহ আবেদন করেছিলেন। স্কুলশিক্ষা দফতর, স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আবেদন খতিয়ে দেখে বিশ্বজিৎবাবুকে কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক পদে নিয়োগপত্র দেয়। কিন্তু মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার স্কুলে গিয়েও তিনি প্রধানশিক্ষক পদে যোগ দিতে পারেননি। স্কুল ভবন তালা বন্ধ রেখে তুমুল অসহযোগিতা করেন টিচার ইনচার্জ।
আরও পড়ুন : গল্পে মশগুল নার্স, এক ব্যক্তিকে দিয়ে ফেললেন কোভিড ভ্যাকসিনের তিনটি ডোজ
শেষ পর্যন্ত বিশ্বজিৎবাবু স্কুল সার্ভিস কমিশন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল শিক্ষা দফতরে নালিশ জানান। এরপরই স্কুল শিক্ষা দফতরের শীর্ষ স্তর থেকে টিচার ইনচার্জকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শুক্রবারের মধ্যে বিশ্বজিৎবাবুকে যোগ দেওয়াতে হবে। জয়েন করাতে না চাইলে সেটা টিচার ইনচার্জকে লিখিতভাবে জানাতে বলেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে নিরঞ্জনবাবু জানান শুক্রবার সকালে তিনি বিশ্বজিৎবাবুকে জয়েন করাবেনই।

এদিন সকালে বিশ্বজিৎবাবুকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন নিরঞ্জনবাবু।
কেন বিশ্বজিৎবাবুকে জয়েন করতে দেওয়া হচ্ছিল না? বুধ ও বৃহস্পতিবার নিরঞ্জনবাবু দাবি করেছিলেন, বিশ্বজিৎবাবুর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিচালন সমিতির দু’জন অভিভাবক প্রতিনিধি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, সেই কারণে তিনি জয়েন করাতে পারবেন না। এদিন অবশ্য সুর পাল্টে তিনি বলেন, “আমি যে জয়েন করাতে পারি সেটাই আমার জানা ছিল না। তাই বুঝতে সমস্যা হয়েছিল।”
যদিও একাংশ শিক্ষক বলছেন, পরিচালন সমিতির সভাপতি, ঝাড়গ্রাম রাজ পরিবারের সদস্য দুর্গেশ মল্লদেবের পরামর্শে বিশ্বজিৎবাবুকে জয়েন করতে দেওয়া হচ্ছিল না। দুর্গেশবাবু অবশ্য বলছেন, “আমি কিছুই জানি না।” প্রাক্তনীদের কেউ কেউ বলছেন, স্কুলে নানা গরমিল রয়েছে। সেই কারণে প্রধানশিক্ষককে আটকানোর চেষ্টা হচ্ছিল। যদিও এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিদায়ী কর্তৃপক্ষ।



