ত্রিপুরারাজনীতি

বিজেপির শাসন ক্ষমতা ত্রিপুরা থেকে শেষ না হলে চুল রাখবেন না মাথায়, ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করে তৃণমূলের পথে বিজেপি বিধায়ক

মাথায় চুল রাখবেন না। ত্রিপুরার শাসন ক্ষমতা থেকে বিজেপি না যাওয়া পর্যন্ত এটাই তাঁর পণ। কালীঘাটে এসে আদি গঙ্গার পাড়ে বসে যজ্ঞ করে, মস্তক মুণ্ডন করে আদি গঙ্গার জলে শুদ্ধ হয়েছেন আশিস দাস (Tripura BJP MLA Ashish Das)। নিজেই বলছেন, ‘বিজেপিতে যোগ দেওয়া আমার অপরাধ হয়েছিল। আমি তার প্রায়শ্চিত্ত করছি।’ আর সেই প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে মস্তক মুণ্ডন করে পণ করলেন, মাথায় চুল আর তিনি রাখবেন না।

বিজেপি বিধায়কের এই গল্পে অবশ্য চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ত্রিপুরার বিজেপি শিবির। তবে তাদের নেতা সুব্রত চক্রবর্তী বলছেন, ”আশিসবাবু আসলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অপমান করলেন তার ভোটারদের। যাদের দয়ায় তিনি নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।” সুরমার এই বিধায়ক দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেও এখনই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। ইস্তফা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দল সিদ্ধান্ত নেবে। ত্রিপুরায় বিজেপির একাধিক নেতা যোগাযোগ রাখছেন তাদের সঙ্গে।

আরও পড়ুন : “জো জিতা ওহি শিকান্দার”, ভবানীপুরে মমতার জয় নিয়ে টুইট তথাগতর

বিগত কয়েক মাস ধরে এমন কথাই বলে চলেছেন তৃণমূল নেতারা। এমনকী, বিজেপির মধ্যে অন্তর্দন্দ্বের কারণ হিসাবে বিপ্লব দেবের নেতৃত্ব পছন্দ নয় বলেও তারা জানাচ্ছিলেন। আশিসবাবুর প্রায়শ্চিত্ত ও বিজেপি ছাড়ার কারণ কি আসলে বিপ্লব দেব? তিনি নিজে অবশ্য বলছেন, ”একা বিপ্লব দেবকে দায়ী করে কোনও লাভ নেই। দায়ী আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারাও। মাঝে মাঝেই তাঁরা প্রতিনিধি পাঠান। কিন্তু মাটির খবর রাখেন না। দলে কী চলছে তার খোঁজ রাখেন না।”

তবে ত্রিপুরার রাজনীতিতে আশিসবাবু সুদীপ রায় বর্মণ শিবিরের বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের খবর, এদের মধ্যেই একটা বড় অংশ যোগাযোগ রাখছে বাংলার শাসক দলের সঙ্গে। তবে তাদের মধ্যে কতজন যোগদান করবে তা সময়ই বলবে। আশিসবাবু অবশ্য একাধিক ইস্যুতেই সরব হয়েছিলেন বিজেপির আচরণের বিরুদ্ধে।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ”ত্রিপুরা ও আরও কিছু রাজ্যের বিজেপি নেতারা প্রায়শ্চিত্ত করতে চান। বিজেপি ত্যাগ করতে চান। আশিস বাবু অনুভব করেছেন, মানুষ কী চাইছেন, আর কী চাইছেন না। তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

সূত্র: নিউজ ১৮

আরও পড়ুন ::

Back to top button