ট্রাম্পের কাশ্মীর মন্তব্য ও আমেরিকার চাপেই কি সংঘর্ষবিরতি? বিদেশমন্ত্রকের কড়া প্রতিক্রিয়া
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির পেছনে আমেরিকার প্রভাব? কাশ্মীর নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সত্যিই মধ্যস্থতার ভূমিকায়? যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে বুধবার এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিল বিদেশমন্ত্রক। জানিয়ে দিল, এই যুদ্ধবিরতির পেছনে কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা লেনদেনের সম্পর্ক নেই। যদিও ভারতের নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে দৃঢ় বার্তাও দেওয়া হয়েছে। সাফ জানানো হয়েছে, কাশ্মীর একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছিল, এখনও তাই রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।
মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিদেশমন্ত্রকের সচিব রণধীর জয়সওয়াল। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—আমেরিকার চাপের কাছে কি নতিস্বীকার করেছে ভারত? উত্তরে তিনি বলেন, “৭ মে, অপারেশন সিঁদুরের শুরু থেকে ১০ মে, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা পর্যন্ত আমেরিকা এবং ভারতের নেতৃত্বের মধ্যে লাগাতার কথা হয়েছে। তৎকালীন উদ্ভুত সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বারবার। কিন্তু কোনও আলোচনায় ব্যবসার কথা উঠে আসেনি।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনিই নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “গোটা রাত দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশই এই মুহূর্ত থেকে সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। সঠিক সময়ে বাস্তবজ্ঞান কাজে লাগানোয় দুপক্ষকে শুভেচ্ছা।” এমনকি সোমবারেও তিনি বলেন, “পরমাণু শক্তিধর দুই দেশকে চাপ দিয়ে সংঘর্ষবিরতি করেছি। যুদ্ধ না থামালে বাণিজ্যেও না, হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম। তাতেই কাজ হয়েছে।” এরপর আরও জোর দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমিই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছি। উভয় দেশের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এবার স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিল ভারত।
বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “কাশ্মীর নিয়ে এখনও একই অবস্থান ভারতের। কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। এ বিষয়ে তৃতীয় কোনও শক্তির মধ্যস্থতা সহ্য করবে না নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র একটি ইস্যুতেই কথা হতে পারে-পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরানো। অন্য কোনও বিষয়ে নয়।”
এখানে উল্লেখযোগ্য, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখনই সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে, ভারত তা আন্তর্জাতিক স্তরে জানিয়েছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি কেবল আমেরিকার সঙ্গেই নয়, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। ফলে, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাকে ভিন্ন কোনও মাত্রা দিতে রাজি নয় ভারত।



