
ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— তা বারবার নিজেকে পুনরাবিষ্কার করে। ১৯৮৪ সালে, “রাকেশ শর্মা” যখন প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পা রাখেন, তখন গোটা দেশ তাঁকে নিয়ে গর্ব করেছিল। দীর্ঘ ৪১ বছর পেরিয়ে এবার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে নতুনভাবে স্পর্শ করলেন “শুভাংশু শুক্লা”। বুধবার, দ্বিতীয় ভারতীয় নভোচর হিসেবে মহাশূন্যে পৌঁছে ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন তিনি। এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যেন গভীর সাযুজ্য রয়েছে ‘দিনের পথিক মনে রেখো, আমি চলেছিলেম রাতে/ সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে হাতে’ — কবিগুরুর এই পঙক্তির।
ভারতীয় বায়ুসেনা গোটা ঘটনাকে ‘দেজা ভু’ মুহূর্ত বলে আখ্যা দিয়েছে। অর্থাৎ একসময় যিনি এই ইতিহাসের পথপ্রদর্শক ছিলেন — সেই ‘রাকেশ শর্মা’ আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। একসময় যাঁর নাম দেশজুড়ে আলোচিত ছিল, আজ শুভাংশুর সঙ্গে সেই নামই ফের উঠে এল মানুষের মুখে।
সেদিন রাকেশ শর্মা কাটিয়েছিলেন “২১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট” মহাকাশে। প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাশূন্যে পৌঁছে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিলেন তিনি। তাঁর সেই ঐতিহাসিক অভিযানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন — “মহাকাশ থেকে কেমন লাগছে ভারতকে?” আর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “সারে জাঁহা সে আচ্ছা” — যা আজকের পরিভাষায় ভাইরাল হওয়ার মতোই ছিল।
বিশ্বের “১২৮তম” ও ভারতের “প্রথম” নভোচর হিসেবে, রাকেশ শর্মা অংশ নিয়েছিলেন সোভিয়েত মহাকাশ মিশনে। ভারতীয় বায়ুসেনার টেস্ট পাইলট থেকে স্কোয়াড্রন লিডার হয়ে ওঠার পর তাঁকে এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই সুযোগ পেতে তাঁকে একাধিক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। “১৯৮২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর” তিনি মনোনীত হন এবং “১৯৮৪ সালের ৩ এপ্রিল” যাত্রা শুরু করেন। প্রশিক্ষণ পর্ব ছিল কঠিন ও দীর্ঘ। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ধাপ ছিল শেষের দিকের ক্লস্ট্রোফোবিয়া টেস্ট — যেখানে তাঁকে “৭২ ঘণ্টা একটি ছোট ঘরে বন্দি” অবস্থায় থাকতে হয়েছিল। প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন, যা তাঁর উত্থানকে অবধারিত করে তোলে।
আজকের নভোচর “শুভাংশু” নিজেই স্বীকার করেছেন, রাকেশ শর্মাই তাঁর “মেন্টর”। যদিও শুভাংশুর জন্ম হয়েছিল রাকেশ শর্মার ঐতিহাসিক অভিযানের ঠিক এক বছর পর, তবুও তিনিও আজ সেই উত্তরাধিকার বহন করছেন। মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সময় শুভাংশু রাকেশ শর্মার প্রতি সম্মান জানাতে সঙ্গে একটি “স্মারক” নিয়েও গিয়েছেন, যদিও তিনি সেই বস্তুটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
আগামী দু’সপ্তাহ গোটা দেশের নজর থাকবে আকাশের দিকে — এক ভারতীয় নভোচারীর নতুন অধ্যায়ের দিকে। এবং সেইসঙ্গে নতুন আলোয় ফের উজ্জ্বল হবেন আর একজন মানুষ — “রাকেশ শর্মা”।



