বেসরকারি হাসপাতালে অভিযোগের মুখে কৌস্তভ বাগচী, তলব করল মোহনপুর থানার পুলিশ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বারাকপুরের ওয়্যারলেস মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ১১টায় তাঁকে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মোহনপুর থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত নোটিস বৃহস্পতিবারই কৌস্তভের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার জেরে প্রতিবাদে সরব হয়েছে চিকিৎসকদের একটি অংশও। এদিন ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ইউনিট-এর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।
নাম না করে কৌস্তভ বাগচীকে কটাক্ষ করে প্রতিনিধি ডাঃ বিবর্তন সাহা বলেন, “চিকিৎসক দিবসের দিন অত্যন্ত অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটেছে। সেদিন যার মৃত্যু হয়েছে তার ট্রিটমেন্ট ডিটেলস আমরা শুনলাম। হাসপাতাল সর্বোত্তম প্রচেষ্টা করেছে বলে আমরা মনে করি। পরবর্তীতে এমন একজন যিনি চিকিৎসা চলাকালীন ছিলেন না, তিনি এসে যেভাবে ভয় দেখিয়েছে, থ্রেট করে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেছে। এটি অত্যন্ত নেগেটিভ বার্তা বহন করেছে। আমরা এই ভিজিটের পর লিখিতভাবে মন্ত্রী শশী পাঁজা ও সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে রিপোর্ট জানাবো।”
আরেক প্রতিনিধি ডাঃ সুমিত সাহাও বলেন, “কোন চিকিৎসক জ্ঞানত চিকিৎসায় গাফিলতি করেন না। ওই রোগী ভর্তি হওয়ার পরপরই হাসপাতাল চিকিৎসা শুরু করেছিল। চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। যদি চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হয় তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবারের তরফে সেখানে অভিযোগ জানানো যেত। কিন্তু সেটা না করে কিছু মানুষ আইন ভেঙে মারমুখী মেজাজে তাণ্ডব চালিয়েছে। এরফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীরাও অসুবিধা সম্মুখীন হয়েছেন। এই ঘটনা একটি লজ্জার দৃষ্টান্ত।”
জানা গিয়েছে, বারাকপুরের এক বিজেপি কর্মীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে বারাকপুর বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাগর দত্ত মেডিকেল ও শেষমেশ ওয়ারলেস মোড়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই ৬৫ বছর বয়সি ওই রোগীর মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। অভিযোগ, তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে হুমকি দেন, গালিগালাজ করেন। সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার সময় রোগীর চিকিৎসা নিয়ে না ভেবে ‘কত টাকা প্যাকেজ লাগবে’ তা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। রোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসা চলাকালীন অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়া হয় এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হয়।
এই প্রসঙ্গে হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ রায় জানান, “পরিষেবা দিতে গিয়ে বিগত তিরিশ বছরের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। রোগীর পরিবার যদি অভিযোগ জানাত তাহলে ময়নাতদন্ত হয়েই জানা যেত অক্সিজেনের অভাবের কারনে মৃত্যু হয়েছে কি না। দুটি হাসপাতাল রেফার হয়ে আমাদের এখানে রোগী আসে। চিকিৎসা শুরু হলে জানা যায় রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ইমারজেন্সিতে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর রোগীকে সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল।”
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করে, যার ভিত্তিতে কৌস্তভ বাগচীকে তলব করে মোহনপুর থানা।
এ বিষয়ে কৌস্তভ বলেন, “এইরকম নোটিস আমার কাছে অনেক এসেছে। আমি জানি কিভাবে এর মোকাবেলা করতে হয়। সরকার এসব করে কোনোভাবেই আমাকে বিচলিত করতে পারবে না। যাবো কি না ঠিক করিনি। আইনগত ভাবে এর মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, “রোগীর পরিবার অভিযোগ করেছিল। ময়নাতদন্তের জন্য কাউন্সিলরের চিঠি পর্যন্ত আনা হয়েছে। পরে পুলিশ ভয় দেখিয়ে জোড়পূর্বক অভিযোগ প্রত্যাহার করিয়েছে। এনিয়ে আইনগত যা যা করণীয় আছে, করা হবে।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, “অ্যাঞ্জিওগ্রাম করার জন্য পরিবারের কাছে বন্ড চাওয়া হলে তারা আলাপ আলোচনা করতে গিয়ে দেরি করে ফেলে। এই কারণেই অপারেশন টেবিলের রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় হার্ট ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয়। রোগীর পরিবার এনিয়ে কিছু বলল না। কোন এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাইরে থেকে এসে চিকিৎসকের নামে কুৎসিত গালিগালাজ, হেনস্তা করল। চিকিৎসকরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চয়ই এরজন্য ব্যবস্থা নেবে।”



