
মাও জে দংয়ের পরে চিনে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন শি জিনপিং (Xi Jinping)। টানা ১৩ বছর ধরে তিনি দেশের একচ্ছত্র শাসক। কমিউনিস্ট পার্টিতেও তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। কিন্তু এমন এক নেতার ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি, ২০২৭ সালের পর শি জিনপিংকে অবসর নিতে হতে পারে। সম্প্রতি কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো বৈঠকে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের পর এই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রথা ভেঙে আজীবন রাষ্ট্র, দল এবং সেনার সর্বোচ্চ পদে থাকার রাস্তাও আগেই প্রস্তুত করেছিলেন জিনপিং। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, দু’বারের বেশি ওই সব পদে থাকা যায় না। কিন্তু ২০১৮ সালে দেশের সংবিধান সংশোধন করে সেই নিয়মে বদল আনেন তিনি। সংসদে সেই প্রস্তাব পাশও হয়ে যায়, যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট তাঁর পক্ষে পড়েছিল। ফলে তিনি আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট, পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকতে পারেন। তবে তাঁর তৃতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালে। এরপরেও তিনি সেই আসনে থাকবেন কি না, তা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা।
গত ৩০ জুন, কমিউনিস্ট পার্টির ২৪ সদস্যের পলিটব্যুরোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দলের শাখা সংগঠনগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এতে কার্যত প্রেসিডেন্টের হাত থেকে কিছু ক্ষমতা কমিয়ে ফেলা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব ইতিমধ্যেই অন্য সংস্থাগুলির হাতে তুলে দিয়েছেন জিনপিং নিজেই। এর পর থেকেই শোনা যাচ্ছে, তাঁকে এবার অবসরের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।
এই জল্পনার পেছনে আরও একটি কারণ হল, সাম্প্রতিক সময় জিনপিংকে খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ২১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত তাঁর প্রকাশ্যে কোনও উপস্থিতি ছিল না। এই ‘অনুপস্থিতি’ জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। এমনকি ব্রিকস সামিটে অংশ নিতেও ব্রাজিল যাননি তিনি।
২০২৭ সালে চিনে পরবর্তী সিপিসি কংগ্রেস বসবে। ওই সময়েই জিনপিংয়ের বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে। সেখানেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



