কুণাল ঘোষের ‘বিগ ফ্রাইডে’র চমক! ‘কর্পূর’ সিনেমার সেটে নেতা-অভিনেতা যেন অরিন্দমের আদর্শ ছাত্র
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রূপোলি পর্দায় পা রেখেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কুণাল ঘোষ। পরিচালক অরিন্দম শীলের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘কর্পূর’-এ তাঁকে দেখা যাবে এক প্রভাবশালী বামনেতার ভূমিকায়। এই খবরে আগ্রহের পারদ চড়েছিল দর্শকদের মধ্যে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কেমনভাবে রূপ দেবেন অনিল বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিত্বকে, তা নিয়ে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে নিজের লুক প্রকাশ্যে এনে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন কুণাল। এবার সরাসরি ‘কর্পূর’-এর সেট থেকে ‘বিগ ফ্রাইডে’-তে ধরা দিল আরও এক নতুন চমক।
ক্যামেরার সামনে প্রথমবার। ফলে অভিনয়ের মৌলিক পাঠ থেকে শুরু করে ক্যামেরার লুক ধরা, সংলাপ বলার ধরণ—সবটাই আয়ত্তে আনতে হচ্ছে তাঁকে। এই প্রক্রিয়ায় অরিন্দম শীলের নির্দেশ মতো প্রতিটি দিক মেনে চলছেন কুণাল। শুক্রবার অভিনেতার শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, তিনি ‘অনিল বিশ্বাস’ সেজে শটে ব্যস্ত, আর অরিন্দম নিজে ক্যামেরার পজিশন বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁকে। কুণালও মন দিয়ে সেই নির্দেশ মেনে নিচ্ছেন একজন নিষ্ঠাবান ছাত্রের মতো।
কুণাল ঘোষ বলছেন, “আমার কাছে এ এক নতুন অভিজ্ঞতার পর্ব।”
প্রসঙ্গত, এই ছবিটি তৈরি হচ্ছে ৯০-এর দশকের শেষভাগে ঘটে যাওয়া একটি রহস্যজনক ঘটনার প্রেক্ষাপটে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায় ১৯৯৭ সালে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা জল্পনা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। সেই কাহিনিকে ঘিরেই সিনেমায় অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে থাকবেন কুণাল।
অভিনয়ের জগতে এই নতুন অধ্যায় নিয়ে আগেই উত্তেজনা প্রকাশ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, “এক একটা চরিত্রের এক একরকম বৈশিষ্ট্য। আমি এই বিষয়ে একদম নতুন। নবাগত। ফলত আমাকে আমার পরিচালক গড়ে পিঠে নিচ্ছেন। আর আমার বন্ধু ব্রাত্য, সেও খুব গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে। আমি সেইমতো নিজেও অনুশীলন করছি। ভালোভাবে বারবার স্ক্রিপ্টটা পড়ছি। পিডিএফ আকারেও ছবির স্ক্রিপ্টটা রেখেছি। কখনও গাড়িতে যেতে যেতে স্ক্রিপ্টটা পড়ে নিচ্ছি। এভাবেই চেষ্টা করছি।”
তবে অভিনয়ের মঞ্চে এলেও নিজেকে প্রতিযোগিতার জায়গায় ফেলতে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, “এই যে এতজন অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন, আমি এটাই দেখাতে চাই যে এদিক থেকেও ওদিকে যাওয়া যায়, পারফর্ম করা যায়। আমার পরিচালক যেন বলেন তিনি আমার কাজে সন্তুষ্ট। আমি নিজেও সন্তুষ্ট হতে চাই যে আমি ফাঁকিবাজি করিনি। আমি কখনও ফাঁকিবাজি করে কোনও কাজ করি না।”



