আগাম সতর্কবার্তার পরও রেলের গাফিলতি! জনশতাব্দীর ধাক্কায় ঝাড়গ্রামে ৩ হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু, ক্ষুব্ধ বন দফতর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ঝাড়গ্রাম রেঞ্জে ফের ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল একাধিক হাতি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খড়গপুরগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস বাঁশতলা স্টেশনের নিকট একটি দল থেকে বিচ্ছিন্ন ৩টি হাতিকে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একটি প্রাপ্তবয়স্ক হাতি ও দুটি হস্তিশাবকের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছে বন দফতর।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাঁশতলা সংলগ্ন অঞ্চলটি তিন দিকেই জঙ্গলে ঘেরা। সেই পথ ধরেই হাতির দল এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই দ্রুতগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস এসে ৩টি হাতিকে ধাক্কা মারে। ‘লাইনের উপরই পড়ে মৃত্যু হয় হাতিগুলির। তিনটি হাতির মধ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক এবং দুটি হস্তিশাবক ছিল।’
দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে। রেল ও বন দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেনের সাহায্যে মৃত হাতিগুলিকে সরিয়ে নেন। ফলে দীর্ঘ সময় ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ধীরে ধীরে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। একের পর এক ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা রেল ও বন দফতর—উভয় পক্ষকেই দায়ী করছেন।
তবে বন দফতর তাদের অবস্থানে অনড়। তাঁদের দাবি, ‘পুরোটাই রেলের অসতর্কতার ফল। রেলকে আগে থেকে জানানো হয়েছিল বাঁশতলা এলাকা দিয়ে হাতির দল যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সতর্ক হয়নি রেল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ রেলকে সতর্ক করা হয়, হাতির দল লাইন পারাপার করতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই স্বাভাবিক গতিতে ছুটেছে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। ধীরগতিতে ট্রেন চালানো হয়নি। তাছাড়া এই প্রথম নয়, এর আগেও যতবার রিভিউ মিটিং হয়েছে, প্রতিবারই রেলকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ করছে না রেল।’
এই ঘটনার পর বন দফতর কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সূত্রের খবর।



