আসাম

অসমে নিষিদ্ধ বহুবিবাহ! একাধিক বিয়ে করলে ৭ বছর জেল, মন্ত্রিসভায় বিল পাশ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Himanta Biswa Sarma : অসমে নিষিদ্ধ বহুবিবাহ! একাধিক বিয়ে করলে ৭ বছর জেল, মন্ত্রিসভায় বিল পাশ - West Bengal News 24
Assam Chief Minister Himanta Biswa Sarma during a rally in Guwahati on April 30 2024 | Photo Credit PTI

অসমে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করতে প্রস্তাবিত নতুন বিলটি রাজ্যের মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। সোমবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বহুবিবাহ প্রতিরোধে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলকে মন্ত্রিসভার সম্মতি দেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসের ২৫ তারিখেই এটি বিধানসভায় পেশ করা হবে। রাজ্যে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি হিমন্ত সরকারের বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ?

হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, প্রস্তাবিত আইনে বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। অর্থাৎ আইনি বিচ্ছেদ না ঘটলে একাধিক বিবাহ করা যাবে না। এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুধু কঠোর সাজাই নয়, বহুবিবাহের কারণে যেসব মহিলা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের সুরক্ষায় একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্তও বিলের অন্তর্ভুক্ত। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ মহিলাদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও, বহুবিবাহে উৎসাহ দেওয়া বা জড়িত থাকা ধর্মগুরু বা কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তাঁদেরও কারাদণ্ডের আওতায় আনা হবে।

তবে প্রস্তাবিত আইনে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষ এবং অসমের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত এলাকা—যেমন বড়োল্যান্ড, ডিমা হাসাও এবং কারবি আংলং—এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। এই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতির কথা বিবেচনা করেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত মাসেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার বিষয়ে—লাভ জেহাদবিরোধী আইন, বহুগামিতা বিরোধী আইন এবং বৈষ্ণব সত্রগুলির সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমেই বহুবিবাহ প্রতিরোধ বিলটি মন্ত্রিসভায় পেশ করা হল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল রাজ্যের জনমানসে ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এই পদক্ষেপকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন বহু পর্যবেক্ষক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিল আইনে পরিণত হলে বিজেপির নির্বাচনী সমীকরণে তা বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অসমের রাজনীতিতে এই বিল সামনের সপ্তাহগুলিতে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য