নিয়ম ভেঙে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের অভিযোগ, দিল্লি যাওয়ার আগে জ্ঞানেশকে চিঠিতে চাপ বাড়ালেন মমতা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন একের পর এক চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ছ’বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরে চিঠি দেওয়া হলেও কোনওটিরই উত্তর মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সাক্ষাতের ঠিক আগেই ফের নতুন অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন তিনি। তিন পাতার ওই চিঠিতে নিয়ম ভেঙে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এর মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর আগেই শুক্রবার রাতে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে কাউন্সিলর ও বিএলএ-২দের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়মে মাইক্রো অবজার্ভার নামে কোনও পদ নেই। তবু নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই নিয়োগ করা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের নির্দেশ মানার প্রয়োজন নেই বলেও নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় কমিশনারকে লেখা চিঠিতেও সেই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী ১৯৫০ সালের রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপলস অ্যাক্ট এবং ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেকটরস রুলের উল্লেখ করেছেন। ওই আইন অনুযায়ী এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের তথ্য যাচাই ও পরীক্ষার দায়িত্ব ইআরও ও এইআরও-দের। কিন্তু তাঁদের কাজের উপর নজরদারির জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ কোন আইনের আওতায় পড়ে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন, এই মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্ট নয়। নির্দিষ্ট আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত নতুন কোনও পদ তৈরির এক্তিয়ার কমিশনের নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিন পাতার চিঠির শেষে গোটা এসআইআর পদ্ধতি নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের বারবার নিয়ম বদলের ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই এই পদ্ধতি দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানিয়েই চিঠি শেষ করেছেন তিনি।



