সই-কাণ্ডে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ! ভবানী ভবন থেকে সোজা মমতার বাড়ি অভিষেক, রবিবারেও চরম নাটক?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিধানসভার সই জাল করার মামলায় অবশেষে ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে ভবানী ভবনে প্রবেশ করার পর, টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা চলে সিআইডি-র (CID) জেরা। রাত সাড়ে ১১টায় যখন তিনি বাইরে বেরোন, তখন তাঁর মুখে কুলুপ। তবে ভবানী ভবন থেকে গাড়ি নিয়ে তিনি সোজা চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কালীঘাটের বাসভবনে। আগামী ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে আবারও হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
রাজনীতি, আইনি লড়াই এবং পারিবারিক সমীকরণের এই ত্র্যহস্পর্শে এই মুহূর্তে সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে সিআইডি-র ম্যারাথন জেরা, অন্যদিকে দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) বিস্ফোরক মন্তব্য— সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
আরও পড়ুন :: শিয়ালদহ ডিভিশনে একগুচ্ছ নতুন ট্রেন! অফিস টাইমে ভিড় কমাতে রেলের মেগা ঘোষণা, দেখে নিন টাইমটেবিল
এতদিন ধরে একাধিক নোটিস এড়ানোর পর, বৃহস্পতিবারই দিল্লি থেকে কলকাতা ফেরেন অভিষেক। বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে তাঁর বিমান যখন দমদম বিমানবন্দরে নামে, তখন সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও ওঠে। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়:
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অভিষেককে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে।
তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
তবে আগামী দু’সপ্তাহ সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ (যেমন গ্রেফতারি) করতে পারবে না।
আদালতের এই কড়া নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানির আগেই তৃণমূলের অন্দরে ঘটে গেছে এক বিরাট বিস্ফোরণ। অভিষেকের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। শুধু তাই নয়, অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন তিনি।
কল্যাণবাবু সাফ জানিয়েছেন, “অভিষেক থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে পারবেন না।” নেত্রীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেকের মমতার বাড়ি যাওয়া সেই জল্পনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই ভবানী ভবনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে করা হয়েছিল নিশ্ছিদ্র। মোতায়েন করা হয়েছিল:
বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিশেষ র্যাফ (RAF) বাহিনী।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে মজুত রাখা হয়েছিল কাঁদানে গ্যাসও।
যদিও কোনো রকম অশান্তি ছাড়াই সাড়ে ৫ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হয়। কিন্তু সিআইডি সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা অভিষেকের জবাবে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট নন। আর সেই কারণেই আগামী ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে।
এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার জন্য তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে স্পিকারকে দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ কী? ওই চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সইয়ে ব্যাপক অসঙ্গতি মিলেছে। অনেকে দাবি করেছেন, তাঁরা ওই চিঠিতে সই-ই করেননি! এমনকি কারও কারও নাম নাকি লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে!
যেহেতু সেই বিতর্কিত চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল, তাই সিআইডি-র সন্দেহের তির তাঁর দিকেই। ইতিমধ্যেই এই সই-কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা (Handwriting Samples) সংগ্রহ করেছে সিআইডি।
আগামী রবিবার ফের ভবানী ভবনে কী হতে চলেছে? অভিষেক কি পারবেন এই আইনি জট কাটিয়ে উঠতে, নাকি কল্যাণের ‘বিদ্রোহ’ তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত? নজর থাকবে রবিবারের হাই-ভোল্টেজ হাজিরার দিকে।



