রাজ্য

ট্রাক আটকে তোলাবাজি! শুভেন্দুর নির্দেশে সাসপেন্ড ২ সরকারি কর্মী, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ট্রাক আটকে তোলাবাজি! শুভেন্দুর নির্দেশে সাসপেন্ড ২ সরকারি কর্মী, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর! - West Bengal News 24

তোলাবাজির বিরুদ্ধে ফের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে বেআইনিভাবে ট্রাক আটকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে মিলল শাস্তি। সাসপেন্ড দুই সরকারি আধিকারিক, রুজু হলো বিভাগীয় তদন্ত।

“আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়”— এই বার্তাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার। ট্রাক আটকে তোলা আদায় এবং চালককে হেনস্থা করার মারাত্মক অভিযোগে তড়িঘড়ি পদক্ষেপে দুজন সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা প্রকাশ্যে এনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অন্যায় করলে রেহাই পাবেন না কেউই।

আরও পড়ুন :: ২০৩১ সালে সুদ-সহ হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি, অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর

ঠিক কী ঘটেছিল রামপুর চেকপোস্টে?

এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রামপুর চেকপোস্টে।

  • ঘটনার সূত্রপাত: দীপক সিং নামক এক ব্যক্তির একটি পণ্যবাহী ট্রাক সার্ভিসিং শেষ করে গ্যারেজে ফিরছিল। ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন শিব যাদব।

  • অন্যায় আটক ও হেনস্থা: অভিযোগ, চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই গাড়িটিকে অন্যায়ভাবে আটকে দেন। শুধু তাই নয়, চালককে বেআইনিভাবে ভয় দেখিয়ে ঘুষের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়।

  • বাতিল করের অজুহাত: চালক ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আধিকারিকরা চরম পদক্ষেপ নেন। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং রাজ্য সরকার আগেই বাতিল করে দিয়েছে, এমন একটি পুরোনো করের অজুহাত দেখিয়ে বেআইনিভাবে ২২,০০০ টাকা দাবি করা হয়।

প্রশাসনিক অ্যাকশন: বরখাস্ত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর

বিষয়টি জানামাত্রই রেয়াত করেনি রাজ্য সরকার। পরিবহণ দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • অভিযুক্তদের নাম: রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়

  • কঠোর শাস্তি: তোলাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এই দুই আধিকারিককেই সরাসরি বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।

  • এসিবি তদন্ত: পুরো বিষয়টি শুধু বিভাগীয় শাস্তিতেই আটকে রাখা হচ্ছে না। বিস্তারিত ফৌজদারি তদন্তের জন্য মামলাটি অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো (Anti-Corruption Bureau)-র কাছে পাঠানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঙ্কার: “দুর্নীতি, হেনস্থা বা বেআইনি সুবিধা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”

পরিবহনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা

নবান্ন সূত্রে খবর, এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য পরিবহণ দপ্তরের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে।

১. বেআইনিভাবে আটকে রাখা সমস্ত গাড়ি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২. রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি বা চালকদের হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ৩. রামপুরসহ রাজ্যের অন্যান্য চেকপোস্টগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button