মহালয়ায় তর্পণের প্রস্তুতি তুঙ্গে, গঙ্গায় ভাসমান ব্যারিকেড, কলকাতা-হাওড়ায় বিশেষ কন্ট্রোল রুম
ওয়েবডেস্ক

মহালয়ার তর্পণ উপলক্ষে কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গার ঘাটে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গঙ্গার জলে ভাসমান ব্যারিকেড বসানো, বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা, প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও উদ্ধারকারী নৌকা মোতায়েন এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ঘাটের পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো, শৌচাগার ও মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
গঙ্গার ঘাটে ভাসমান ব্যারিকেড, বাড়তি নজরদারি
মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করেন। ভোররাত থেকে ঘাটে পুণ্যার্থীদের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গঙ্গার জলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে ভাসমান ব্যারিকেড বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী নৌকা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুত
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ঘাটগুলিতে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়, দড়ি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হবে। পাশাপাশি, মোটরচালিত নৌকার মাধ্যমে ঘাট সংলগ্ন জলভাগে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলার বিভিন্ন ঘাটেও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা।
কলকাতা ও হাওড়ায় বিশেষ কন্ট্রোল রুম
ঘাটগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল অফিসাররা কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়।
এ ছাড়া, নবান্নে অবস্থিত রাজ্যের জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘাটে চিকিৎসা ও জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা
তর্পণ করতে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কলকাতা পুরসভার অধীন গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ভোর হওয়ার আগেই ঘাটের সিঁড়ি, যাতায়াতের রাস্তা এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্ধকারে চলাচলের সময় যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়টিও প্রস্তুতির অংশ।
পরিচ্ছন্নতা ও পুণ্যার্থীদের সুবিধায় বিশেষ ব্যবস্থা
নিরাপত্তার পাশাপাশি ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘাটের সিঁড়ি, বাঁধ, নামার জায়গা, ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম এবং ঘাটে পৌঁছনোর রাস্তাগুলি পরিষ্কার রাখার নির্দেশ রয়েছে।
ঘাট ও সংলগ্ন জলভাগে জমে থাকা আবর্জনা, পলি, আগাছা এবং ফুলের বর্জ্য সরিয়ে ফেলতে হবে। পর্যাপ্ত আবর্জনার পাত্র রাখার পাশাপাশি তর্পণ শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত সাফাইকর্মীদের মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ঘাটগুলিতে বায়ো-টয়লেট এবং মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
পুণ্যার্থীদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ?
মহালয়ার দিন ভোরে গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট ঘাটের প্রবেশপথ, যান চলাচল ও পার্কিং সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশ আগে জেনে নেওয়া ভালো। জলে নামার সময় সতর্ক থাকা, নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করা জরুরি।
কোন কোন ঘাটে ঠিক কী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে, তার বিস্তারিত তালিকা এবং কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের নম্বর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত।
FAQ — পাঠকের সম্ভাব্য প্রশ্ন
১. ২০২৬ সালে মহালয়া কবে?
২০২৬ সালের মহালয়া ১০ অক্টোবর, শনিবার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুজো ক্যালেন্ডারেও এই তারিখ উল্লেখ রয়েছে।
২. মহালয়ায় কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গার ঘাটে কী নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ভাসমান ব্যারিকেড, প্রশিক্ষিত ডুবুরি, উদ্ধারকারী নৌকা, সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিশেষ কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩. তর্পণের সময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কী ব্যবস্থা থাকবে?
উদ্ধারকর্মী, অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক, মোটরচালিত নৌকা, প্রাথমিক চিকিৎসার শিবির ও অ্যাম্বুল্যান্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. ঘাটে পুণ্যার্থীদের জন্য কী কী সুবিধা থাকবে?
পরিচ্ছন্ন ঘাট, পর্যাপ্ত আলো, আবর্জনার পাত্র, বায়ো-টয়লেট এবং মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের পৃথক ঘরের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
৫. কোন কোন জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলার বিভিন্ন ঘাটে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।



