লকডাউনের মধ্যেই মদ পাচারের অভিযোগ বাঁকুড়ায়, বৈধ কাগজ আছে বলে দাবি দোকান মালিকদের !

মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: করোনা সতর্কতায় দেশ জুড়ে লকডাউন। মদ বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সেই সময় রাতের অন্ধকারে বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন ভাদুলের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজস কর্পোরেশনের ওয়েব হাউস থেকে সাতটি ছোটো গাড়িতে করে মদ পাচারের অভিযোগ উঠল। সোমবার রাতে বিষয়টি স্থানীয় মানুষের নজরে আসতেই তাঁরা বাঁকুড়া সদর থানায় খবর দেন।
রাতেই পুলিশ গিয়ে ওই সাতটি গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা সাধন ব্রহ্মচারী বলেন, ”যে সাতটি গাড়িতে মদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার কোনওটিতে সবজি, আবার কোনওটিতে মেডিসিন লেখা ছিল। এই মদ পাচারের ঘটনায় বড়সড় কোনও চক্র যুক্ত আছে বলেই আমাদের মনে হয়। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।” এ দিকে সিমলাপালের সরকার অনুমোদিত মদের দোকানের মালিক জগবন্ধু মালের দাবি, সরকারি বৈধ কাগজপত্র নিয়েই তারা মদ নিয়ে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু কী কারণে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে এসেছে তার উত্তর জানা নেই। একই দাবি করেন এলাকার আরেক মদ বিক্রেতা চন্দন আচার্যও। তিনি বলেন, ”সরকারি অনুমোদন নিয়েই সরকারি গোডাউন থেকে মদ নিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কেন পুলিশ আমাদের আটকাল বুঝতে পারছি না। কাল রাত থেকে থানায় বসিয়ে রেখেছে। আমাদের অপরাধটা কী সেটাই তো বুঝতে পারছি না।” এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, ”এটা অদ্ভুত ব্যাপার। লকডাউনের মধ্যেই সরকারি গুদাম থেকে গাড়ি ভর্তি করে করে বিদেশি মদ বেরিয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই নাকি বিদেশি মদের দাম ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তাই গুদাম খালি করার চেষ্টা। এখন এই বর্ধিত অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে সেটাই জিজ্ঞাস্য। শুধু বাঁকুড়াতেই নয়, রাজ্যের অন্য জেলা থেকেও এমন খবর আসছে।” এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কোনও কর্তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোতুলপুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বিষয়টি শুনে বলেন, ”আপনাদের মুখ থেকেই বিষয়টি শুনলাম। কী হয়েছে না হয়েছে আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
যদি কোনও ঘটনা হয়ে থাকে অবশ্যই প্রশাসন দেখবে। বিজেপি তো এমন উল্টোপাল্টা মন্তব্য করবেই। মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই যন্ত্রণা থেকেই এ সব বলছে।” লকডাউনে সারা রাজ্যে যখন মদ বিক্রি নিষিদ্ধ তখন এই বিপুল পরিমা মদ কোথায় যাচ্ছিল এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন এলাকার মানুষ। এ দিকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
সুত্র:THE WALL



