জানা-অজানা

ব্রিটিশ রাণীর দুটি জন্মদিন, কারন জানেন কী ?

ব্রিটিশ রাণীর দুটি জন্মদিন, কারন জানেন কী ? - West Bengal News 24

ভারতীয় উপমহাদেশ সহ বিভিন্ন দেশেই প্রকৃত জন্ম তারিখ লুকানোর ঘটনা আমরা দেখি। প্রায়ই দেখা যায়, একজন মানুষ তার সনদপত্রে যেই জন্ম তারিখ উল্লেখ্য করেন প্রকৃত পক্ষে সেটি তার সঠিক জন্মদিন নয়। অনেকে আবার বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘটা করে ভুয়া জন্মদিন পালন করেন। কিন্তু ব্রিটিশ রানীর বেলায় আসলে ঘটনাটা কী?

বরাবরই দেখা গেছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রতিবছরই দুটি জন্মদিন পালন করেন। অনাড়ম্বরভাবে কাটে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটিশ সিংহাসনে থাকা রানির জন্মদিনগুলো। চলতি বছরের গত ২১ এপ্রিল ছিল রানির ৯৫তম জন্মদিন। কিন্তু এবার এই দিনটি ঘিরে বড় ধরনের কোনো আয়োজন রাখা হয়নি। কারণ জন্মদিনের মাত্র কয়েকদিন আগেই তার স্বামী প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যু হয়। এজন্য পুরো রাজপরিবার ছিল শোকে কাতর। সে কারণেই সেদিন রানির জন্মদিন ঘিরে কোনো বিশেষ আয়োজন ছিল না। তবে তার দ্বিতীয় জন্মদিনে থাকছে বিশেষ আয়োজন।

ব্রিটিশ রাণীর দুটি জন্মদিন, কারন জানেন কী ? - West Bengal News 24

এবার জেনেনি কেনো তিনি দুটি জন্মদিন পালন করেন সেটি। এর কারণ হলো, ব্রিটিশ রাজসিংহাসনে যেই থাকুক না কেন ঐতিহ্য মেনেই যুক্তরাজ্য তার অতিরিক্ত একটি জন্মদিন পালন করে। সাধারণত গ্রীষ্মেই পালিত হয় এই জন্মদিন। কারণ গ্রীষ্মের আবহাওয়া ভালো থাকে।

রাজা দ্বিতীয় জর্জ ১৭৪৮ সাল থেকে এই ‘ভুয়া’ জন্মদিন পালনের রেওয়াজ শুরু করেন। দ্বিতীয় এই জন্মদিনটিতে ঐতিহ্য মেনেই রাজা বা রানী যিনিই সিংহাসনে থাকুন না কেন তিনি নানা রঙে সজ্জিত সেনাদলের কুচকাওয়াজে অংশ নেন। লন্ডনে রানীর বাসভন বাকিংহাম প্যালেস থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে সেনাদলের কুচকাওয়াজ। অতীতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেরও জন্মদিন এভাবে পালন করা হতো বলে জানা যায়।

এদিকে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক বার্তায় রানির সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্য, গ্রেট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। শনিবার (১২ জুন) লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বার্তায় বলেন, আজকের এই শুভক্ষণে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণে মহামহিমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতির সুযোগটি নিতে চাই। ২০২১-২০২২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীতে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বার্তায় বলেন, আপনার অনুকরণীয় অনুগ্রহ, কর্তব্য ও সেবার জন্য আমি আপনাকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এসবের মধ্যে দিয়ে আপনি আপনার দেশ ও কমনওয়েলথ পরিবারে গত সাত দশক ধরে সেবা করেছেন। আপনি আমাদের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক, বিশেষ করে কমনওয়েলথ পরিবারের প্রধান হিসেবে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। বরাবরের মতোই আপনার মহিমা বাংলাদেশের জনগণ তাদের হৃদয়ে সর্বোচ্চ স্নেহ ও প্রশংসার সঙ্গে ধরে রেখেছে।

ব্রিটিশ রাণীর দুটি জন্মদিন, কারন জানেন কী ? - West Bengal News 24

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে ২৫ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ব্রিটেনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে থাকা রানি হিসেবে ২০১৫ সালে তিনি মাতামহী রানি ভিক্টোরিয়াকে ছাড়িয়ে যান।

অষ্টম এডওয়ার্ড বিধবা ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করতে সিংহাসন ছাড়লে তার ছোট ভাই রানির বাবা ষষ্ঠ জর্জ ১৯৩৬ সালে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।

কানাড, অস্ট্রেলিয়া, এবং নিউজিল্যান্ডসহ সাবেক ১৫টি ব্রিটিশ উপনিবেশেরও রাষ্ট্রপ্রধান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ব্রিটেনের দ্বিতীয় এলিজাবেথ হচ্ছেন বিশ্বের ১৬টি সার্বভৌম রাষ্ট্র, অর্থাৎ কমনওয়েলথ রাষ্ট্রগুলোর বর্তমান রানী ও রাষ্ট্রপ্রধান।

কমনওয়েলথ রাষ্ট্রগুলো হলো-যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বারবাডোস, বাহামাস, গ্রানাডা, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টুভালু, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন, বেলিজ, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা এবং সেন্ট কিট্রস ও নেভিস। কমনওয়েলথ প্রধান ছাড়াও তিনি ৫৪ সদস্যবিশিষ্ট কমনওয়েলথ অব নেশনসেরও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় এলিজাবেথ যুক্তরাজ্যের শাসনকর্তা এবং চার্চ অব ইংল্যান্ডেরও প্রধান।

বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এরই মধ্যে ব্রিটিশ রাজসিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্ণ করেছেন। ব্রিটেনের হাজার বছরের ইতিহাসে তিনি হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি সমর্থ হলেন এ বিরল দীর্ঘতম সময়কে ছুঁয়ে দিতে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য