
পশ্চিমবঙ্গে ভোট চলাকালীন এবং ভোট পরবর্তী সময়ে গণধর্ষণের অভিযোগ। এমনই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক কিশোরী সহ বেশ কিছু মহিলা। তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই হিংসা এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং অভিযুক্তদের শাস্তি চান। সেসময়কার গণধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণও সামনে উঠে আসে। অভিযোগের তির তৃণমূল কর্মীদের দিকে।
আদালতে মোট তিনটি আবেদন জমা পড়ে। তার মধ্যে ৬০ বছরের এক বয়স্ক মহিলা তাঁর আবেদনপত্রের ঘটনার বিভৎসতা তুলে ধরেন। তা থেকে জানা যায়, ৩ মে, ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর একদিন পর ওই মহিলার বাড়ি ঘেরাও করে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ। তারপর মহিলার পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। না ছাড়লে তার ফল ভোগ করতে হবে বলেও জানায় ঘেরাওকারীরা। আবেদনকারীর পুত্রবধূকে মারধরও করা হয়। গুরুতর জখম হন তিনি। এই হামলার সঙ্গে জড়িতরা তৃণমূল কর্মী বলেই অভিযোগপত্রে জানানো হয়।
দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, ৬০ বছরের বয়স্ক মহিলাকেও ছাড়েনি তারা। অভিযোগ, তাঁর ৬ বছরের নাতির সামনেই মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়। মারধর করা হয় তাঁর বৌমাকে।
দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ৪ মে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ৫ জন তৃণমূল কর্মী (TMC workers) মহিলার বাড়িতে আসে এবং জোর করে ঘরের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে। তারপর চড় মারা হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর হাত বেঁধে নির্যাতন শুরু করে অপরাধীরা। আদালতের কাছে এও জানানো হয় যে, শুধু ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা থামেনি, তাঁকে বিষ দেওয়ারও চেষ্টা করে তারা। এবং গোটা ঘটনাটাই ঘটেছে মহিলার ৬ বছরের নাতির সামনে।
মহিলা আদালতকে এও জানান যে, এই ঘটনার পর পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে।
অন্যদিকে ১৭ বছরের এক নাবালিকার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে দুজন ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রেও পুলিশ বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। এরকম একই অভিযোগ তোলে ১৯ বছরের এক তরুণী।
রাজ্য প্রশাসন অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের খুন হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো উল্লেখ ছিল। তারা বিশেষ তদন্তকারী দল অর্থাৎ সিট-এর (SIT) দ্বারা তদন্ত চান এবং রাজ্যের বাইরে ট্রায়ালের আবেদন জানানো হয়েছিল।
সূত্র : কলকাতা ২৪*৭



