
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপিকে নতুন করে চাঙ্গা করার গুরুদায়িত্ব এখন শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কাঁধে। একাধিক সমস্যার মাঝেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন দলের রাজ্য সভাপতির পদে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটি-র অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘উগ্র’ হিন্দুত্বের সুরের ঠিক বিপরীত ধ্বনি শোনা গেল। শমীক বরং সব সম্প্রদায়কে পাশে নিয়ে চলার ইঙ্গিত দিলেন। পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথাও প্রকাশ করলেন। তাঁর কথায়, “আমরা কোনও ভেদাভেদ চাই না। আমরা চাই, দুর্গাপুজোর বিসর্জনের মিছিল আর মহরমের মিছিল একই সময় একই পথ দিয়ে যাক।”
দলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় শমীকের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরানো। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “তৃণমূল আর থাকবে না। শেষ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের মুখ কোথায়? সবাইকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করছে। আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করব। আগামী নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে আমরা আসব।” তিনি স্বীকার করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেই বাস্তবতাই — “এতদিন ধরে বিজেপি এতটা রাস্তা পেরিয়েছে, সেই রাস্তা কিন্তু মসৃণ ছিল না। আমাদের কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে, মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও কর্মীরা সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছেন।”
বিজেপির রাজ্য ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ‘আদি বনাম নব্য’ নেতা-কর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিভাজন ঘোচাতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও সেভাবে কাজের কাজ হয়নি। শমীকের কাছে সেই বিভাজন মিটিয়ে সংগঠনে ঐক্য ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ— বিশেষ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে। সেই লক্ষ্যেই তাঁর প্রতিশ্রুতি, “আমরা সর্বস্তরের সব নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে লড়াই করব। কোথাও কোনও ভেদাভেদ থাকবে না।”
দলের বিরুদ্ধে ওঠা ‘মুসলিম বিরোধী’ তকমা সরিয়ে রাখতেও এবার সক্রিয় ভূমিকা নিতে চান নতুন রাজ্য সভাপতি। সেই প্রসঙ্গেই শমীকের সংযোজন, “বিজেপির লড়াই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা লড়ছি আপনাদের জন্য। আমরা চাই, আপনাদের বাড়ির ছেলেদের হাত থেকে পাথর কেড়ে বই দিতে। যারা তলোয়ার নিয়েছে, তাদের হাতে কলম ধরিয়ে দিতে চাই। এটাই বিজেপির লড়াই। এটা করে দেখাব।”



