
বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলার কারণে বাঙালিদের হেনস্তার অভিযোগে প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও তৃণমূল নেতৃত্ব।
ডোরিনা ক্রসিংয়ে সভামঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন— “আরও বাংলায় কথা বলব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখুন।”
মমতার দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্র একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে সন্দেহজনক কাউকে এক মাস পর্যন্ত আটক রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই বিষয়ে মমতা বলেন, “যাকেই সন্দেহ হবে জেলে নিয়ে এক মাস রেখে দিতে পারো। বিনা বিচারে এক মাস রেখে দেবেন? এটা কী! এ তো জরুরি অবস্থার থেকেও বেশি। ইন্দিরা গান্ধীকে গালাগাল দিয়ে সুপার ইমার্জেন্সি ডে পালন করলেন। তাহলে আপনারা কী করছেন? এ তো জরুরি অবস্থার থেকেও বেশি কিছু। অবৈধভাবে আইন করেছে, যে আইনের মানে বোঝে না।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত সরকার লুকিয়ে নোটিফিকেশন দিয়েছে। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিকে আমরা চ্যালেঞ্জ করব।”
এরপর মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি বাংলায় কাজ করি। বাংলার লোকে আমাকে বেছে নিয়েছেন। আমাকে বাংলায় কাজ করতে দিন। বাংলায় আমার সমস্যা করলে আমি গোটা ভারতে ঘুরব। আমাকে আপনারা আটকে রাখতে পারবেন না। আমি দেখব কতগুলি ডিটেনশন ক্যাম্পে আমাকে নিয়ে যেতে পারেন। সেখানে গিয়েও আমি বাংলাতেই কথা বলব। বাংলার লোকেদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখলে বাংলার মানুষও বিজেপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাবে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখবে। বিজেপি জেনে রাখো, খেলা হবে। তৈরি থাকো।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিহারে শুনেছি ৩০.৫ লক্ষ ভোট বাদ দিয়ে দিয়েছে। এ সব করে মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিতেছে। না হলে জিততে পারত না। দিল্লিতেও এই সব করেই জিতেছে। বিহারেও সেই পরিকল্পনা করছে। তারাও আমাদের ভাইবোন। বাংলাতেও পরিকল্পনা করছে। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করব। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও আমরা ছাড়ব না।”
যদিও এই এনআরসি সংক্রান্ত নোটিফিকেশন নিয়ে এখনো পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।



