
বাংলাদেশে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘর্ষে রক্ত ঝরল গোপালগঞ্জে। শেখ হাসিনার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও ৯ জন।
বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি গোপালগঞ্জে সভা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি, যারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে, মুজিবের সমাধি ভাঙার আহ্বানও জানিয়েছিল। শেখ হাসিনার পতন উদযাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়।
সভাস্থলে এনসিপি সদস্যদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে আওয়ামি লিগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
আজ ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি। বাংলাদেশে দিনটি ‘জুলাই শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। গত বছর এই সময় থেকেই শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল বলে দাবি এনসিপির। সেই উপলক্ষ্যে দলটি মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। এরই অঙ্গ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে মিছিল হয়।
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ, সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর রোডে খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আহত হন তিন পুলিশকর্মী। পরে সদর ইউএনও এম রাকিবুল হাসান এলাকা পরিদর্শনে গেলে ফেরার পথে কংশুর এলাকায় তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়, ঘটনায় চালক আহত হন।
এরপর যখন এনসিপির নেতারা ফের সভা করতে যান, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, ২০০-৩০০ জনের একটি দল, যারা সবাই আওয়ামি লিগের সমর্থক, হামলা চালিয়ে পুলিশ ও দলের গাড়ি ঘিরে ফেলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি চালান। পরে এনসিপি কর্মীরা অন্য দিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মহম্মদ কামরুজ্জামান জেলা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস বিকেল ৪:৪৫ নাগাদ জানান, “বিকেলে চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ছিলেন।”
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সন্ধ্যায় জানানো হয়, “আজ রাত ৮টা থেকে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ বলবৎ থাকবে।”



