আন্তর্জাতিক

‘টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করেছে আমেরিকা’ পার্লামেন্টে বিস্ফোরক খাজা আসিফ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Pakistan : ‘টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করেছে আমেরিকা’ পার্লামেন্টে বিস্ফোরক খাজা আসিফ - West Bengal News 24

বিশেষ স্বার্থে পাকিস্তানকে কাজে লাগিয়েছে আমেরিকা, প্রয়োজন ফুরোতেই দূরে সরিয়ে দিয়েছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন স্বয়ং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তাও আবার নিজের দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

খাজা আসিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর থেকে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হয়, বিশেষত আফগানিস্তান প্রসঙ্গে। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠতার ফল শেষ পর্যন্ত দেশের পক্ষেই ক্ষতিকর হয়েছে বলে মত তাঁর। ইসলামাবাদ সেই সময় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ছিল বড় ভুল এখন তারই খেসারত দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে যে অবস্থান পাকিস্তান নিয়ে এসেছে, কার্যত তার বিপরীত সুর শোনা গিয়েছে তাঁর বক্তব্যে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, ইসলাম রক্ষার নামে আফগানিস্তানে যে লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক ছিল না। জেহাদের নাম করে যে সংঘাত চলেছে, তা ছিল বিভ্রান্তিকর ও ধ্বংস ডেকে আনা পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, আশির দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত-বিরোধী লড়াই কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে হয়নি; এর নেপথ্যে ছিল আমেরিকার কূটনৈতিক কৌশল। তাঁর দাবি, রাশিয়া এমন কিছু করেনি যাতে জেহাদ ঘোষণার যৌক্তিকতা থাকে। পাশাপাশি ১৯৯৯ সালের পর, বিশেষ করে ২০০১ সালে ৯/১১-র ঘটনার পর আমেরিকার পাশে দাঁড়ানোর ফলেই পাকিস্তানকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য সে দেশের সেনাশাসক জিয়া-উল-হক ও পারভেজ মুশারফের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন খাজা। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে আমেরিকা তাঁদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

২০০১-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে খাজা জানান, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আমেরিকাকে সমর্থন জানাতে গিয়ে পাকিস্তান তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু দেশ যখন চরমপন্থা ও আর্থিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়ে, তখন ওয়াশিংটন সরে দাঁড়ায়। তাঁর কথায়, “আমরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা কখনওই পূরণ হবে না।”

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাকিস্তানের প্রতি তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে হোয়াইট হাউস কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য