
ডিজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সিআইডির তদন্তকারী দল তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে পৌঁছয়। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তদন্তকারীরা তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে পারেননি। বর্তমানে তাঁরা অভিষেকের বাড়ির সামনেই অপেক্ষা করছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে একটি সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই সভায় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যাঁরা বাংলাকে বঞ্চিত করেছেন, আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছেন, আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। ৪ তারিখে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে হালকা করে একটু ডিজেও বাজবে। রবীন্দ্রসঙ্গীত তো প্রতিবার বাজে। তার সঙ্গে হালকা করে ডিজেও বাজবে এবার। যারা বেশি লম্ফঝম্প করছেন। আমাদের সৌজন্যতা দুর্বলতা নয়।”
আরও পড়ুন :: ‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ ভরাডুবির জন্য আইপ্যাক-কে দুষে বিস্ফোরক অনুব্রত, মুখ খুললেন নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে
অভিষেকের এই মন্তব্যের পর তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছিলেন তিনি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট এবং ভিডিও সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তভার গ্রহণের একদিনের মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছয় সিআইডি। যদিও সূত্রের খবর, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি কোথায় গিয়েছেন, তা স্পষ্ট না হলেও অনুমান করা হচ্ছে যে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় বৃহস্পতিবার ভবানীভবনে সিআইডির মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই মামলায় আগামী রবিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। এরই মধ্যে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির তৎপরতা বাড়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।



