রাজ্য

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ৬৩৫ কোটি টাকার বিপুল কেলেঙ্কারি! ‘ছাড়ব না’ হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে ৬৩৫ কোটি টাকার বিপুল কেলেঙ্কারি! ‘ছাড়ব না’ হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! - West Bengal News 24

বিনিয়োগের আড়ালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের সময় একাধিকবার এই সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও, বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজ্যে কাঙ্ক্ষিত শিল্পোন্নয়ন ঘটেনি। বর্তমানে বিজেপি সরকারের লক্ষ্য রাজ্যকে শিল্পবান্ধব পরিবেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই সঙ্গে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য ব্যয় হওয়া ৬৩৫ কোটি টাকার খরচের খতিয়ানও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করতে গিয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাড়ব না।” একইসঙ্গে ফলতার ‘পুষ্পা’ ইস্যু নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “পুষ্পাদের অবস্থা তো দেখতে পাচ্ছেন। তদন্ত হবে।”

আরও পড়ুন :: বিস্ফোরক ‘ডিজে’ মন্তব্যের জের! কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ির দরজায় হাজির সিআইডি, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের ওপর জোর দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিল্প, বিনিয়োগ ছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পদপ্তরের টিম ভালো রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু প্রকল্প এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে টিম গঠন করে দিয়েছি। ছোট, মাঝারি, বড় শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই লক্ষ্য। তাতেই বেকার সমস্যা সমাধান, পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসবেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে এগোতে পারব। বড় বিনিয়োগ এলে ব্রিজ নির্মাণ, চিকিৎসাক্ষেত্র, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন হবে।”

বিনিয়োগে আগ্রহী শিল্পপতিদের ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের অতীত রেকর্ড ও উদ্দেশ্য যাচাই করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যাঁরা আসছেন কী কারণে আসছেন, সত্যিই কিছু করতে চান কিনা, এগুলো আমরা দেখে নিতে চাই। জমি, অর্থ তছরুপের কোনও অভিযোগ আছে কিনা। সৌজন্য নাকি ডেস্টিনেশন বেঙ্গল, কী করতে চাইছেন, এগুলো দেখে নিতে চাই।”

রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সামনে রেখেই শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণে সরকার অগ্রসর হবে বলে এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুন ::

Back to top button