রাজনীতিরাজ্য

বড় ধাক্কা ঘাসফুলে! রাজ্যসভায় তৃণমূলের ৪ নম্বর উইকেট পতন, বিজেপি-র পথে টলিউড কুইন কোয়েল?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বড় ধাক্কা ঘাসফুলে! রাজ্যসভায় তৃণমূলের ৪ নম্বর উইকেট পতন, বিজেপি-র পথে টলিউড কুইন কোয়েল? - West Bengal News 24

লোকসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। এবার ভারতের রাজনীতি ও বিনোদন জগতে বড়সড় আলোড়ন ফেলে রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (রুক্মিণী মল্লিক)। বৃহস্পতিবার সশরীরে দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন তিনি। কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার পর মুহূর্তেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েলের বৈঠক ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা— তবে কি সুখেন্দুশেখর বা সুস্মিতা দেবের পথ অনুসরণ করে কোয়েলও যোগ দিচ্ছেন পদ্ম শিবিরে?

তৃণমূলের অন্দরে ফাটল যে কতটা চওড়া হয়েছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো বৃহস্পতিবার। জানা গেছে, নিয়ম মেনে সশরীরে হাজির হয়েই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কোয়েল। এর ঠিক পরেই তিনি দেখা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে।

আরও পড়ুন :: মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদন! ঋতব্রতের পাশে বসে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সব পদে ইস্তফা

রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাক্ষাৎ মোটেও সৌজন্যমূলক নয়। কারণ সাম্প্রতিককালে তৃণমূলের যতজন সাংসদ দলবদল করেছেন, তাঁদের নেপথ্যে চাণক্যের ভূমিকা পালন করেছেন এই ভূপেন্দ্র যাদবই। ফলে কোয়েলের এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— বিজেপির টিকিটেই কি ফের রাজ্যসভায় ফিরছেন কোয়েল মল্লিক?

চলতি মাসেই তৃণমূল কংগ্রেসের তিন হেভিওয়েট রাজ্যসভা সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল তাঁদের ফের রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। অর্থাৎ, প্রার্থী একই রইল, শুধু তাঁদের রাজনৈতিক দলের রঙ বদলে গেল।

বড় ধাক্কা ঘাসফুলে! রাজ্যসভায় তৃণমূলের ৪ নম্বর উইকেট পতন, বিজেপি-র পথে টলিউড কুইন কোয়েল? - West Bengal News 24
কোয়েল মল্লিকের ইস্তফাপত্র

শুক্রবারই এই তিন নেতার হাতে রাজ্যসভার সাংসদপদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের জোরালো অনুমান, কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও ঠিক একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল কোয়েল মল্লিককে। এপ্রিল মাসে সপরিবারে দিল্লি গিয়ে সাংসদ হিসেবে শপথও নিয়েছিলেন তিনি। আগামী সোমবার থেকেই সংসদের হাই-ভোল্টেজ বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাংসদ হওয়ার পর এটিই হতে পারত কোয়েলের প্রথম সংসদীয় অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই আচমকা এই ইস্তফা অনেক বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জুলাই মাসের শুরুতেই তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহ দেখা দেয়। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন লোকসভা সাংসদ দিল্লির বুকে দফায় দফায় বৈঠক করেন ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। পরবর্তীতে তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

তৃণমূলের সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রাশ টেনে ধরে বিজেপির দিকে টানার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব। এবার তাঁর সঙ্গেই কোয়েলের বৈঠক নিশ্চিতভাবেই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের বিখ্যাত ‘মল্লিকবাড়ি’-তে গিয়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে দিয়েছিলেন। তার পরেই কোয়েলকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে তৃণমূল।

এমনকি শপথ নেওয়ার পর কোয়েল আবেগঘনভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন:

“এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি।”

কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঠিক কী এমন ঘটল যে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় বা মেনকা গুরুস্বামীদের সতীর্থ কোয়েলকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

আপনার কী মনে হয়? টলিউডের কোয়েল মল্লিকও কি এবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করবেন? কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!

আরও পড়ুন ::

Back to top button