শুধু ‘পুজো পারপাসে’র সঙ্গী! ঠাকুর দেখা থেকে হাত ধরে ঘোরা, দশমীতেই শেষ প্রেম – কী ভাবে পাবেন এমন সঙ্গী?
ওয়েবডেস্ক

দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রাতভর ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া আর ছবি তোলা। কিন্তু এই উৎসবের মরসুমেই যাঁরা একা, তাঁদের কেউ কেউ এবার কয়েক দিনের জন্য সঙ্গী খুঁজছেন। সমাজমাধ্যমে পুজোর সময় একসঙ্গে ঘোরা, খাওয়া বা সময় কাটানোর জন্য সঙ্গী চেয়ে পোস্ট নজরে আসছে।
কী ধরনের সঙ্গী খোঁজা হচ্ছে?
বিষয়টি সব ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত নয়। কারও প্রয়োজন প্যান্ডেল ঘোরার সঙ্গী, কেউ চাইছেন একসঙ্গে শহর ঘুরতে, আবার কেউ চাইছেন পুজোর দিনগুলিতে গল্প, খাওয়াদাওয়া বা ছবি তোলার জন্য একজন সঙ্গী।
৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে সমাজমাধ্যমে এমন একাধিক পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পুজোর কয়েক দিনের জন্য সঙ্গী খোঁজা, পারিশ্রমিকের আলোচনা এবং শহর ঘোরার মতো বিভিন্ন প্রস্তাবের কথাও উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, লক্ষ্য সবসময় প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটা অনেক বেশি সরল—উৎসবের কয়েকটা দিন একা না থাকা।
‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ কেন বলা হচ্ছে?
সমাজমাধ্যমে এই ধরনের ব্যবস্থাকে কোথাও কোথাও ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ বলা হচ্ছে। তবে শব্দটি শুনে যেন এটিকে প্রচলিত প্রেমের সম্পর্ক বা আনুষ্ঠানিক ডেটিং পরিষেবা বলে ধরে নেওয়া না হয়।
ভারতে পুজোকে কেন্দ্র করে এই ধরনের পোস্টের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলেও, এগুলিকে একটি সর্বত্র চালু, আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক পরিষেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। বরং সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে সঙ্গী খোঁজা বা এই ধরনের ধারণা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—এটাই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট।
কেন পুজোর সময় এমন চাহিদা বাড়তে পারে?
উৎসবের সময় একাকিত্ব অনেকের কাছেই বেশি চোখে পড়ে। বন্ধুরা কেউ পরিবার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ সম্পর্কে রয়েছেন, আবার কারও বন্ধুদের সময়সূচি মেলে না। ফলে প্যান্ডেলে যাওয়ার সময় পাশে কাউকে পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই সাময়িক সঙ্গীর প্রয়োজন তৈরি হতে পারে।
এর সঙ্গে রয়েছে পুজোর সামাজিক পরিবেশ। একসঙ্গে প্যান্ডেল দেখা, রেস্তরাঁয় খাওয়া, ছবি তোলা কিংবা রাতের কলকাতা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা অনেকেই ভাগ করে নিতে চান।
কলকাতায় উৎসব ও ডেটিংয়ের সম্পর্কও নতুন নয়
পুজোকে কেন্দ্র করে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বা ডেটিংয়ের প্রবণতা যে রয়েছে, তার একটি আলাদা তথ্যও রয়েছে।
২০২৪ সালে Tinder-এর প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার ৪৩ শতাংশ Gen Z মনে করেন, উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ডেট বা ম্যাচকে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য উপযুক্ত সময়। একই সূত্রে বলা হয়েছিল, কলকাতার প্রতি তিন জন তরুণ সিঙ্গলের মধ্যে প্রায় একজন উৎসব বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়ে ডেট খুঁজতে Tinder ব্যবহার করেছেন।
তবে এই তথ্যটি ‘রেন্টাল সঙ্গী’র প্রমাণ নয়। এটি শুধু দেখায় যে কলকাতায় উৎসবের সময় সামাজিক যোগাযোগ ও ডেটিংয়ের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্য।
জাপানে অবশ্য ‘রেন্টাল সঙ্গী’ পরিষেবা রয়েছে
সাময়িক সঙ্গী নেওয়ার ধারণাটি জাপানে আরও সংগঠিত। সেখানে rental girlfriend ধরনের পরিষেবা রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একজন companion বুক করা যায়।
উদাহরণ হিসেবে Rent-Kano-র পরিষেবা অনুযায়ী, গ্রাহক নির্দিষ্ট একজন সঙ্গী বেছে নিয়ে আগে থেকে সময় ও পরিকল্পনা ঠিক করতে পারেন। খাবার খাওয়া, দর্শনীয় স্থান ঘোরা, কেনাকাটা বা শুধু কথা বলার মতো কার্যকলাপ এর মধ্যে থাকতে পারে। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানায়, এটি ডেটিং সাইট বা প্রাপ্তবয়স্ক পরিষেবা নয়।
জাপানের এই মডেলে ব্যক্তিগত বা বন্ধ জায়গায় সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ রাখার মতো নিরাপত্তা-নিয়মও রয়েছে।
পুজোয় সাময়িক সঙ্গী খুঁজলে সতর্কতা জরুরি
সমাজমাধ্যমে অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা। কোনও পোস্ট দেখে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা বা টাকা দেওয়া উচিত নয়।
প্রথমে পরিচয় যাচাই করা, ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলা এবং দেখা করতে হলে জনসমাগমপূর্ণ জায়গা বেছে নেওয়া নিরাপদ পদ্ধতি। প্রথম সাক্ষাতে নির্জন জায়গা এড়িয়ে চলাও জরুরি।
অপরিচিত ব্যক্তিকে OTP, ব্যাঙ্কের তথ্য, পাসওয়ার্ড বা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নথি দেওয়া উচিত নয়। কেউ যদি অস্বাভাবিক অগ্রিম টাকা, ব্যক্তিগত ছবি বা গোপনীয় তথ্য দাবি করেন, সেক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
পুজোর ‘সঙ্গী’ কি সত্যিই প্রেমের সম্পর্ক?
অবশ্যই নয়। এই প্রবণতার মূল ধারণাই হল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামাজিক সঙ্গ। কারও ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব, কারও ক্ষেত্রে প্যান্ডেল ঘোরা, আবার কারও ক্ষেত্রে নিছক একসঙ্গে সময় কাটানোই উদ্দেশ্য হতে পারে।
তাই ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, প্রতিটি ঘটনাকে প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবের সঙ্গে মানুষের সামাজিক জীবনও বদলায়। সেই পরিবর্তনেরই একটি নতুন প্রকাশ হতে পারে কয়েক দিনের জন্য সঙ্গী খোঁজার এই প্রবণতা।
তবে সমাজমাধ্যমে এমন পোস্ট দেখা গেলেই সেটিকে নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য পরিষেবা ধরে নেওয়া উচিত নয়। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিচয় যাচাই ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
FAQ
পুজোর জন্য কি কয়েক দিনের সঙ্গী পাওয়া যায়?
সমাজমাধ্যমে পুজোর সময় কয়েক দিনের জন্য ঘোরাঘুরি বা সময় কাটানোর সঙ্গী চেয়ে পোস্টের উদাহরণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এগুলিকে সর্বত্র চালু আনুষ্ঠানিক পরিষেবা হিসেবে দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ বলতে কী বোঝায়?
সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একজন পুরুষ সঙ্গী নেওয়ার ধারণাকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। এটি সব ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রেমের সম্পর্ক বোঝায় না।
জাপানে কি সত্যিই রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড পরিষেবা আছে?
হ্যাঁ। জাপানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য companionship service-এর অস্তিত্ব রয়েছে। কিছু পরিষেবা খাবার, ঘোরাঘুরি ও কথাবার্তার মতো কার্যকলাপের জন্য সঙ্গী দেয় এবং নিজেদের dating বা adult service থেকে আলাদা বলে উল্লেখ করে।
পুজোয় অপরিচিত সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করা কি নিরাপদ?
ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। পরিচয় যাচাই করে, প্রথম সাক্ষাৎ জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় করে এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ লেনদেনে সতর্ক থাকা উচিত।
পুজোর সময় কলকাতায় ডেটিংয়ের আগ্রহ কি বেশি?
Tinder-এর ২০২৪ সালের প্রকাশিত সমীক্ষায় কলকাতার তরুণদের মধ্যে উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়ে ডেটিংয়ের আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।



