খুলছে ঝাড়গ্রাম জেলার জুবিলি বাজার

স্বপ্নীল মজুমদার, ঝাড়গ্রাম: গ্রিন জোন ঝাড়গ্রাম জেলায় জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে ধীরে ধীরে। এবার প্রায় আট দিন সিল থাকার পরে খুলে দেওয়া হচ্ছে ঝাড়গ্রাম শহর তথা জেলার প্রধান জুবিলি বাজার। গত ৯ মে জুবিলি বাজারের এক দোকান-কর্মীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় বাজারটি সিল করে দিয়েছিল পুলিশ। তারপর থেকে জুবিলি বাজারের একটি বড় অংশে সর্বসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জুবিলি বাজারে মাছ ও সংলগ্ন রেল বাজারের কাঁচা অনাজের দোকানপাট খোলা থাকলেও ঘুরপথে শহরবাসীকে যেতে হচ্ছিল।
জুবিলি বাজারে মুদি দোকানের এক কর্মীর করোনা ধরা পড়ার পরে তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের মেচগ্রামের লেভেল ৩-৪ হাসপাতলে পাঠিয়েছিল প্রশাসন। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। তবে ঘটনার পরেপরেই জুবিলি বাজারটি পুরসভার উদ্যোগে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছিল। সোমবার জুবিলি বাজারের বেশ কিছু ব্যবসায়ী মহকুমার শাসকের কাছে বাজার খোলার জন্য আবেদন জানান। ব্যবসায়ীরা জানান, সবুজ জেলায় যখন বেশিরভাগ দোকানপাট খুলেছে, টোটো চলছে জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে তাহলে জীবাণুমুক্ত বাজারে কেন তারা দোকান খুলতে পারবেন না? ওই ব্যবসায়ীদের আবেদন বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা।
মহকুমাশাসক তথা পুরসভার প্রশাসক সুবর্ণ রায় জানিয়ে, ‘দেন মঙ্গলবার ১৯ মে বেশ কিছু শর্তবলী মেনে জুবিলি বাজার খুলবে। বাজারে সীমিত সংখ্যক লোকজন প্রবেশ করতে পারবেন। এজন্য বাজারের বিভিন্ন প্রবেশপথে ‘গার্ড রেল’ বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ। সাইকেল বা মোটর বাইক নিয়ে বাজারে ঢোকা যাবে না। পায়ে হেঁটে খুব অল্প সংখ্যক লোকজন ঢুকবেন এবং দোকানে কেনা কাটার পর তাঁদের ফিরে আসতে হবে। প্রতিটি দোকানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে হবে। দোকানের ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক ছাড়া কোনও ক্রেতাকে কোনোভাবেই সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। মাস্ক ছাড়া কেউ বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়াও প্রত্যেক দোকানে স্যানিটাইজার রাখতে হবে এবং ক্রেতা ও বিক্রেতা যেকোনো কেনাবেচার সময় স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন। দোকানগুলি খোলার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম পালন করতে হবে। জানা গিয়েছে সরকারি নির্দিষ্ট সময় মেনেই দোকানগুলি সীমিত সময়ের জন্য খোলা যাবে।
তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে খুশি ব্যবসায়ী মহল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ ছিল। সবুজ জেলায় অতিরিক্ত দোকানপাট খোলা হলেও আচমকা জুবিলি সিল হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়পক্ষই সমস্যায় পড়েন। এক ব্যবসায়ী বলেন, “দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় দোকানপাট বন্ধ ছিল। আমাদের রুজিরোজগার নেই। তারপরে এক মুদির দোকানের কর্মীর করোনা ধরা পড়ার পরে মার্কেটটি সিল করে দেয় পুলিশ। ফলে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসন এখন শর্তসাপেক্ষে বাজার খুলতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বাজার খোলা হলে আমরা উপকৃত হব। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে চলবো।”



