উড়ন্ত মাছের গল্প

ধরুন, সাগরের নীল জলরাশির উপর ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। শিকারের উদ্দেশ্যে টোপ ফেলতেই হিংস্র গতিতে ছুটে আসছে আপনার দিকে। নাহ, এটা কোন ভৌতিক ছবির কাহিনী না। বাস্তবেও এমন কিছু মাছ আছে আমাদের এই পৃথিবীতে যাদের উড়ন্ত মাছ বা ফ্লাইং ফিস বলা হয়। এরা পাখির মত উড়তে না পারলেও পানির উপর বেশ লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। শত্রুর হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য তারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করে।
উষ্ণ সমুদ্রীয় অঞ্চলে এই ধরনের মাছ লক্ষ্য করা যায়। তাদের স্ট্রিমলাইনড টর্পেডো আকৃতির পৃষ্ট এবং ডানার মত জোড়া পাখনা তাদের পানির উপর লাফিয়ে চলতে সহায়তা করে। ওড়ার অদ্ভুত ক্ষমতা থাকার কারনে এই মাছকে শিকারে পরিনত করতে বড় বড় মাছদের বেশ বেগ পেতে হয়। উড়ন্ত এই মাছের মূল খাবার হচ্ছে প্ল্যাঙ্কটন।
আরও পড়ুন: রহস্যময়ী কুইন ক্লিওপেট্রার অজানা কাহিনী
এখন পর্যন্ত ৪০ প্রজাতির উড়ন্ত মাছ সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার ‘four-winged flying fish’ নামেও পরিচিত। ফ্লাইং ফিস ৪ ফুট থেকে ৬৫৫ ফুট পর্যন্ত উড়তে পারে এবং তাদের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিমি পর্যন্ত হয়। এদের মধ্যে ‘Four-winged flying fish’ ১৩১২ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে।

মাছটির উড়ে বেড়ানোর পদ্ধতিটাও বেশ চমৎকার। প্রথমে মাছটি সাগরের পৃষ্ঠে লাফ দিয়ে উঠে। তারপর মাত্র এক সেকেন্ডে ৭০ বার সাগরের পৃষ্ঠে লেজ নাড়িয়ে অগ্রসর হতে থাকে,তারপর পাখির মত ডানা মেলে দেয়। এই ডানা তাদের উচ্চতা লাভে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: স্মার্ট মায়েদের শিশুরা স্মার্ট হয়!
এদের ওড়ার মূল রহস্য হচ্ছে, এই মাছের বক্ষ-পাখনা থাকে অনেক বড় যা ডানা বা পাখার মত কাজ করে আর সাহায্য করে পানির উপরে উড়ে বা লাফিয়ে চলতে। কোন কোন প্রজাতির শ্রোণী-পাখনা অথবা পায়ু-পাখনাও অনেক বড় হয়। এদের লেজ বা পুচ্ছ পাখনাও অনেক বড় ও শক্ত যা দিয়ে এরা পানিতে আঘাত করে উড়ার গতিশক্তি লাভ করে।



