মতামত

উন্নয়নে এগিয়ে বাংলা এরপরেও সুকৌশলে রাজ্য দখল করার চেষ্টা বিরোধীদের

মৃত্যুঞ্জয় সরদার

বাংলায় যত উন্নয়ন দেখছে, মানুষ যত দেখছি তত হতাশ হয়ে পড়ছে এবং রাজ্যের শাসক দল বিরোধী মনোভাব তৈরি করে দিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। দুয়ারে দুয়ারে সরকার। এই কথাটি যেভাবে রাজ্যের একেবারে গ্রহণযোগ্য জায়গায় মানুষ গ্রহণ করেছে। ঠিক এর উল্টোটা বিরোধীরা সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে, প্রতিটা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এক ধরনের প্রচার হচ্ছে, যে সরকারকে তোমার বাড়ি এসে পৌঁছেছে সবার বুকে একটাই কথা না। অনেকে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান হয়নি, গভীর জলে চলে গেছে বাম আমল থেকেই। তেমনি গ্রাম বাংলার বহু পরিবার রয়েছে।

তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বোঝেনা হচ্ছে সরকার ভাওতা দিচ্ছে, ভোটের আগে মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে আদপেই তোমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। ঠিক উল্টো টাই বোঝানো হচ্ছে, গ্রামবাংলায় গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন সাংবাদিক পরিবারের উপরে কেমনি অত্যাচার, অনাচার, অবিচার এবং সবকিছু দিচ্ছে না এটা কিন্তু বাংলা পরিনাম ভয়ঙ্কর। মানুষ সত্যিকারে সমস্যায় জর্জরিত তাই বিরোধী দলের কথাগুলো তাদের কানে বাজছে। সেই কারণে যদি বাংলার উন্নয়ন কে সামনে রেখে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে দিদিকে আরো কৌশলী হতে হবে। সত্যিকারে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে রাজ্য স্তর থেকে সরকারি প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমস্যার সমাধানের খোঁজ নিতে হবে। আর করা যেতে পারে বাংলায় সৎ নিষ্ঠাবান সাংবাদিককে সামনে রেখে তাদের কাজ দিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কোন সমস্যার প্রকৃত ঘটনা কি আছে। দিদির উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আজকের বাংলার নেতারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে। এসব গ্রাম বাংলার লোক দেখতে দেখতে তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সত্যগুলো জানিনা কেন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খবরটি পৌঁছাচ্ছে না। যাক এসব কথা আজকেরে আমার লেখার একটাই কারণ বাংলার উন্নয়ন দেখে, আগামী দিনে মানুষকে ভোট দেবে প্রশ্নচিহ্ন সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লেখাটি বাংলার শাসক দলের কাছে অপ্রিয় সত্য হলেও সত্যি কথাটা আমি তুলে ধরব একদিকে উন্নয়ন আরেকদিকে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। দুইয়ের মাঝে বাংলা যেন আজকের বিপদগ্রস্ত, বাংলার উন্নয়ন যতটা মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়েছে, ততটাই ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেনি নেতারা। বা পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ, সেই কারণে এর প্রভাব ভোটব্যাংকে যেতে পারে আগামী বিধানসভা ভোটে।

বাংলার উন্নয়নের হাতিয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উন্নয়নের দিক আমি এই লেখার মধ্যে তুলে ধরছি। বাংলার উন্নয়ন নিয়ে তোপ দাগা বিজেপিকে কার্যত সম্প্রীতি তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন গত ১০ বছরে রাজ্যে করা তাঁর উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে বলেন, ‘বাংলায় অনেক হয়েছে, বলতে গেলে রামায়ণ-মহাভারত-কোরান-বাইবেল সব শেষ হয়ে যাবে। রাজ্যে সব উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সেই দিকে রাজ্যে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী। রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, শিল্পশ্রী, সমব্যথী থেকে শুরু করে একজন মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রের সঙ্গেই এই সরকার জুড়ে রয়েছে। মানুষকে একটু সুবিধা দিতেই এই প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে। এতে বহু মানুষই উপকৃত হবেন। এ ও মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ বছরের মধ্যে ৮টা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সময় পেয়েছি মাত্র পাঁচটা বছর। তাতেই এত কাজ করা হয়েছে। যা বাংলায় কেউ কোনওদিন ভাবতেই পারেনি। পাশাপাশি, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, জানুয়ারি থেকে রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সিভিক ভলিন্টিয়ার, মিড ডে মিল-সহ যে ক্ষেত্রগুলি রয়েছে তা দেখে নেওয়া হয়েছে বলেই জানান তিনি। পাশাপাশি, এদিন তিনি স্পষ্টই জানান, যে বা যারা বাইরে থেকে এসে রাজ্যে গুণ্ডামি করছে তারাই বহিরাগত। যারা রাজ্যে এসে থেকে রাজ্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তারা বহিরাগত নয়।

আরও পড়ুন : মোদি, মমতাকে চিঠি সারদা কর্তার, নেতাদের নেয়া টাকার অঙ্ক ফাঁস করলেন

তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরসভার নির্বাচন করছে। দেশের কী অবস্থা তা স্পষ্ট। দেশের সীমান্তের কি অবস্থা, অর্থনীতিতে ধস নামছে, সে সব দিকে নজর নেই। শুধু ভোট। পরিস্থিতি এতটাই নিচে নেমেছে যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরসভার নির্বাচন করতে হচ্ছে। কারও বাড়িতে এসে রান্না করে খাবার খাচ্ছে, ছবি তুলছে। কিন্তু দেশের কী অবস্থা, কেউ দেখছে না। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির ‘বহিরাগত’ নিয়ে কথা তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগমী এপ্রিল থেকে মে মাসে এই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণের কথা। সেই নির্বাচন সামনে রেখে এখন উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রধান দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, জাতীয় কংগ্রেস ও বাম দল ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতাকে রাজ্যে নির্বাচন তদারকির জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুনীল দেওধর, বিনোদ সোনকার, বিনোদ তাওড়ে, দুষ্মন্ত গৌতম ও হরিশ দ্বিবেদি। তাঁরা কেউই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন। তাঁরা বুথ স্তর পর্যায়ের নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। এই পাঁচ নেতাকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের এ প্রচারে অসন্তুষ্ট বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

সম্প্রীতি বুধবার সকালে কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিটে তিনি বলেন, বাংলার উন্নয়নে অবাঙালিদের অবদান অনেক বেশি। কিন্তু তাঁরা বহিরাগত নন। ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলায় বাইরের মানুষ এসে এখানে বসতি স্থাপন করে উন্নয়নে শরিক হয়েছেন। তাঁদের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তাঁদের অবদান অনেক বেশি। কেন এই বহিরাগত প্রশ্ন আসবে? শাসকের বিরোধীদের নিজেদের দোষ ঢাকতে একে অপরের উপরে ইচ্ছাকৃত চাপা উত্তেজনা দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে।এটা যেমন সত্য কথা ঠিক আরেকটি সত্য কথা অস্বীকার করা যাবে না বাংলার মানুষ ও পারবেনা, উন্নয়ন হয়েছে এই বাংলায়। ঠিক এর উল্টোটা বলতে গেলে বলতে হয়,বাংলায় উন্নয়নের সাথে সাথে অনেক অবনতি হয়েছে। অনেক জায়গায় খাতা-কলমে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে কোন না কোন সমস্যা রয়ে গেছে। গ্রাম্য সাংবাদিকদের আজও প্রাধান্য দেয় নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেটা কর্ণপাত করেননি। কি কথা গুলো ঠাকুর সত্যের মতো। অন্যদিকে এও বলা যেতে পারে,করোনা আবহেও বাংলায় কর্মসংস্থান হয়েছে বলে আগেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার আরও একবার সেই খতিয়ানই তুলে ধরলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আশ্বাস আরও কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত হচ্ছে রাজ্যে। এর আগে সাধারণ মানুষকে রাজ্যের প্রকল্পগুলির সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে ‘দুয়ারে দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও গ্রহণ করে সরকার। দুয়ারে দুয়ারে সরকার গিয়ে সত্যি মানুষের কতটা সমস্যার সমাধান হবে এ নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠেছে গ্রাম-গঞ্জ থেকে। সব প্রকল্প এর অপব্যবহার হচ্ছে গ্রামগঞ্জে। প্রকৃত মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি,উন্নয়নের তো মানুষের জন্য তাহলে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না কেন।সেই প্রসঙ্গে বলতে গেলে বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করতে হয়।বাম আমলের ৩৪ বছরের বিশাল দেনা রাজ্যের ঘাড়ে এখন পাহাড়প্রমাণ চাপ হিসাবে সামনে দাঁড়িয়েছে। ৩৪ বছর ধরে সিপিএম হার্মাদরা রাজ্যে কোনও উন্নয়নের কাজ করেনি। উল্টে তারা শুধু বছরের পর বছর দেনা করে গিয়েছে। সেই দেনার টাকায় পকেট ভরিয়েছে সিপিএমের হার্মাদরা ও টাকার পাহাড় গড়া হয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। হার্মাদদের এই টাকা চুরির পিছনে বরাবর সাহায্য করে গিয়েছেন দিল্লির কংগ্রেস নেতারা। সিপিএম সরকার যখন এইভাবে বছরের পর বছর দেনা বাড়িয়েছে, তখন চুপ করে থেকেছে কংগ্রেস। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন বাম আমলের এই বিপুল ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর আর্জি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছিলেন। অতীতের কংগ্রেস সরকার যেমন সিপিএম হার্মাদদের দেনা করে টাকা চুরিতে কোনও বাধা দেয়নি, তেমনই বিজেপি সরকারও বাংলার জননেত্রীর আর্জিতে কোনও সাড়া দেয়নি। বিজেপি কখনওই বাংলার উন্নয়ন চায় না। বাংলার উন্নয়ন চায় না বলেই তারা বাম আমলের ঋণের বোঝা থেকে রাজ্যকে সাময়িক রেহাই দেওয়ার কোনও ব্যবস্থাই করেনি। বাম আমলের ঋণের বোঝা সুদে-আসলে বাড়তে বাড়তে এখন কার্যত হিমালয় পর্বতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমান আর্থিক বছরে সুদে-আসলে ঋণের বোঝা পৌঁছেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকায়। এই টাকাটা বছরের শুরুতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক  রাজ্যের কোষাগার থেকে কেটে নেয়। এমনিতেই রাজ্য সরকারের আয়ের বিশেষ সূত্র নেই। কিন্তু সংবিধানে যেভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া আছে, তাতে রাজ্যের আর্থিক দায় বিপুল।

আরও পড়ুন : কাকদ্বীপে বিজেপির আর নয় অন্যায় কর্মসূচি থেকে তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা

এই বিপুল আর্থিক দায় রাজ্যকে সামলাতে হয় তার সামান্য আয় থেকে। টাকার ঘাটতি পড়লে কেন্দ্র সরকার নোট ছাপাতে পারে। যে সুযোগ রাজ্যের নেই। কিন্ত সীমিত আয়ের মধ্যে বাম সরকারের আমলে তৈরি হওয়া বিশাল ঋণের বোঝা সামলে রাজ্য সরকার গত আট বছর ধরে বিরাট উন্নয়নের কাজ করে যেতে সক্ষম হয়েছে। গত আট বছরে রাজ্যে যে পরিমাণ উন্নয়নের কাজ হয়েছে, তা অতীতে বাংলায় কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। এমনকী দেশের মধ্যেও গত আট বছরে এই রাজ্যের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মডেল হয়ে গিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কারণেই। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব মাত্র আট বছরে বাংলাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বাংলার উন্নয়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলা প্রথম। এছাড়া ই-গর্ভনেন্স, ই-টেন্ডার, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বাংলা প্রথম। ক্ষুদ্রশিল্পের উপর আমরা নির্ভরশীল। রাজ্যে ১০ লক্ষ আইটি কর্মী রয়েছেন। বাংলায় বেড়েছে জিডিপি। ২.৫ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে। উইপ্রোতে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। মহামারী কেটে যাবে। তবে রাজ্যের শিল্প, উন্নয়ন থেকে যাবে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে। তৈরি হচ্ছে সিলিকন ভ্যালি, আইটি হাব। আইটিসি, টিসিএস, ইনফোসিসের মতো সংস্থার মাধ্যমে এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত  করেছে।” করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে জারি হয় লকডাউন (Lockdown)। তার ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট সঙ্গীণ। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও বাংলাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা কালে রাজ্যে কর্মহীনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পোর্টাল। যার মাধ্যমে ভিনরাজ্য থেকে ফেরা আইটি কর্মীরা সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এও বলতে হয়। ৫৬ হাজার কোটি টাকা একটি আর্থিক বছরে দেনা শোধ করে এই পরিমাণ উন্নয়নের কাজ দেশের আর কোনও সরকার করে দেখাতে পারেনি। আগামিদিনেও করতে পারবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে প্রথম যে কাজে নজর দিয়েছিলেন তা হল রাজকোষের নিজস্ব আয় বাড়ানো। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর মাত্র এক বছরেই তিনি রাজ্যের নিজস্ব আয়কে দ্বিগুণ করেছিলেন। রাজ্যের নিজস্ব আয় দ্বিগুণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওভাবেই রাজ্যবাসীর উপর বাড়তি করের বোঝা চাপাতে হয়নি। বরং তিনি জ্বালানি তেল-সহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যবাসীকে করের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। করে নিজস্ব আয় মুখ্যমন্ত্রী বাড়াতে পেরেছেন সম্পূর্ণই তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের গুণে। বাম আমলে রাজ্যের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগই ছিল না সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের। তারা দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে কিছু ভাবতেই পারতেন না। কীভাবে রাজ্যের আয় বাড়ানো যেতে পারে, কোন ক্ষেত্রে চুরি বন্ধ করা যাবে, কোন ক্ষেত্রে আধিকারিকদের উদ্যোগী করে বাড়তি আয়ের বন্দোবস্ত হবে- ইত্যাদি ব্যাপারে সিপিএমের হার্মাদ নেতাদের কোনও ভাবনা ও পরিকল্পনা ছিল না। এর ফলে পুরোপুরি ভুগতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে। রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোটাকে তাঁর লক্ষ্য হিসাবে স্থির করে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তিনি উদয়স্ত পরিশ্রম করেছেন। নেতা যদি সারাদিন পরিশ্রম করেন, তাহলে অন্যানরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হবেন। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজটিই হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা দিয়ে গোটা রাজ্য প্রশাসনকে উদবুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। কীভাবে রাজ্যের আয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তা রূপায়ণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা সফলভাবে রূপায়ণ করতে পারাতেই রাজ্যের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। রাজ্য তার নিজস্ব আয় দ্বিগুণ না করতে পারলে এই উন্নয়ন কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না।কেন্দ্রীয় সরকার বাম আমলের ঋণের বোঝা বাবদ রাজ্যের কোষাগার থেকে বছরে ৫৬ হাজার কোটি টাকা কেটে নিচ্ছে। রাজ্যের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা দিতে এক বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে। এই টাকাও ৫০ হাজার কোটি টাকার কম নয়। তার পরেও শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা চাট্টিখানি কথা  নয়।

আরও পড়ুন : কৃষি নিয়ে বিক্ষোভ করবে তৃণমূল

গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অসম্ভব কাজটিই সম্ভব করে আসছেন। আসলে বাংলার সরকার অতীতে প্রশাসনের শীর্ষপদে এইরকম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখেনি । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব , পরিকল্পনা রচনা করার দক্ষতা এবং প্রশাসনকে চালানোর ক্ষমতা এই অসম্ভবকে বছরের পর বছর সম্ভব করে তুলেছে। রাজ্যবাসীদের পক্ষে এটা চরম সৌভাগ্য যে তারা প্রশাসনের শীর্ষে এইরকম এক নেতৃত্বকে পেয়েছে।গত আট বছর ধরে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়নমূলক কাজ রাজ্যে হয়েছে, তাতে নিশ্চিত করেই এই রাজ্যকে এক নতুন শিখরে পৌঁছে দেবে। গোটা দেশে অর্থনীতিতে যখন বিরাট মন্দা নেমে এসেছে, তখন এই রাজ্যে বার্ষিক আয়বৃদ্ধি এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান তথা জিডিপি বৃদ্ধির হার ১২.৬৮ শতাংশ। যা গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবেই দেশের  জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রতি বছরই কমছে। কমতে কমতে তা এখন ছয়ের ঘরে চলে গিয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবই বলছে, রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার সর্বকালীন রেকর্ড ১২.৬৮ শতাংশ।

এটা সম্ভব হয়েছে বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার উন্নয়নমূলক কাজে গত আট বছর ধরে এত বিপুল টাকা খরচ করেছে যে তার সুফল আর্থিক বৃদ্ধির হার বাড়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য ভোগ করছে। গোটা দেশেই বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমছে। শিল্পোদ্যোগীরা বেশ কিছুদিন হল লগ্নি করার ক্ষেত্রে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে লগ্নি ভয়ংকরভাবে কমে যাওয়ায় দেশের আর্থিক হাল প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বারবার আর্জি জানাচ্ছে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনাচিন্তা করুক। কিন্তু কেন্দ্রের এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরেরা প্রতিদিন বিবৃতি  দিচ্ছেন। তাঁরা পর্যন্ত সরকারকে উদ্যোগ নিতে বারবার অনুরোধ করছেন। এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে একমাত্র উদ্যোগী হয়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি রাজ্য সরকারের সীমিত আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আজকে যদি পশ্চিমবঙ্গ বিপুল টাকা খরচ না করত, তাহলে এই রাজ্যেও আর্থিক মন্দা ভয়াবহ চেহারায় আত্মপ্রকাশ করত। বাম আমলে এই রাজ্যে শিল্পের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : ‘দুয়ারে সরকার’-এর শিবিরে চলুন, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে আবেদন টিএমসিপি নেতার

এখানে কলকারখানা বাম আমলে উঠে গিয়েছে। তার উপর বেসরকারি লগ্নি নেই। রাজ্যের জনসংখ্যাও বিপুল। এই বিরাট জনসংখ্যাকে বাঁচিয়ে রেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদ্যোগ।বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপর রাজ্য সরকারের উন্নয়নী ব্যয় অন্য কোনও রাজ্য কল্পনাই করতে পারে না। বাংলায় সেটাই সম্ভব করে দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সরকারের উন্নয়নমূলক খরচ বাঁচিয়ে রেখেছে রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর সরকার পরিচালনা করছেন, তা গোটা দেশের সামনে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে অন্য রাজ্যের সরকারগুলিও ভাবতে শুরু  করেছে আর্থিক মন্দা মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারের কী ভূমিকা হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার তার কোনও দায়িত্ব পালন করছে না। এই আর্থিক মন্দার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা উচিত, তার ছিটেফোঁটাও তারা করছে না। এইভাবে রাজ্য সরকার পাশে না দাঁড়ালে বাংলার অর্থনীতির হাল ভয়াবহ হবে। বাংলাকে এইভাবে রক্ষা করছেন একমাত্র বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ তাঁর নেতৃত্বে বাংলা যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে আগামিদিনে এই রাজ্য আরও অনেক দূর এগোবে। বাংলার আর্থিক বৃদ্ধির এই হার বজায় থাকলে ঘাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকার দেনার বোঝা নিয়েও বাংলা সবদিক থেকে এগিয়ে যাবে। বাংলার উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গতি লাভ করেছে, তাকে আর কোনওভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়। যদিও এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজেপি নানাভাবে চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বানচাল করতে। বিজেপির এই চক্রান্ত এই রাজ্যের মানুষ সফল হতে দেবে না।

আরও পড়ুন ::

Back to top button