মতামত

সংবাদমাধ্যমগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ব-মূল্যায়ন

মৃত্যুঞ্জয় সরদার



বর্তমানে সাংবাদিকদের লেখালেখির অনেকটা প্লাটফর্ম সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু তাদের হিংসার পরিমাণটাও বেড়েছে।কেউ কারো ভালো সহ্য করতে পারে না। জনপ্রিয় এবং ব্যতিক্রম কিছু ”অনলাইন নিউজ পোর্টাল” আছে তাদের ভাবি আলাদা। কি হনুবে এমন ভাব। এখানে যারা লেখে তাদের নিয়মিত লেখক সম্মানী দেয়া হয় না। প্রয়োজনে তারা ‘কৌশলে টাকা চায়’।  আবার কেউ যদি লেখককে টাকা দেয় তো ‘মাস ছয়েক কি়ংবা বছর’ ধরে অপেক্ষায় থাকতে হয়। মাস শেষ হলেই প্রাপ্য সম্মানী পাওনা সেটা নিয়ে ছিনি মিনি খেলা চলে। এমন কথাটি জানতে পেরে ব্যক্তিগতভাবেই সাংবাদিকদের পক্ষ নিয়ে ফোন করেও বিস্মিত হয়েছি। অনেকেই ফেসবুকের ইনবক্সে আমাকে জানালে কষ্ট লাগে।সেই থেকে আমি হিংসা কখনো খুনীদের উপরে নিজের মতো করে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। হিংসার মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের কাজে লাগায় অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলের নেতারা। আমরা যারাই সমাজসেবী তারা অনেকেই উপরে একটি ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে রয়েছি। পিছনে হিংসা ও খুনিদের মদতদাতা তেমনি বহু নেতাদের চরিত্র রূপরেখা অতি সাবধানে আমি তুলে আনতে পেরেছি।অর্থনৈতিক সঙ্গে যোগসূত্র সবকিছু সমাজসেবা ,রাজনীতি, খুন, হিংসা ছবির মূলে কিন্তু অর্থ অর্থের হিংসা। এ কথাটি অনেকেই হয়তো বিতর্ক ভাবে নিতে পারে কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে নিজেরা একটু সর্তকতা অবলম্বন করলে দেখতে পাবে, সমস্যা তৈরি করে রাজনৈতিক নেতাদের একাংশরা, সেই সমস্যা সমাধানের রাস্তা বের করে অর্থনৈতিক পেয়ে গেলে ন সেই সব নেতারা।লেখকরা সর্বদাই যে যত মোটা টাকা নিতে পারে তারা ততো শক্তির পরিধি অনেক বেশি সেটা চিটিংবাজী করে হতে পারে, বা ভয় দেখিয়ে মুনাফা নিতে পারে।সেই সব সাংবাদিকদের লেখা লেখনীতে জোর থাকুক বা নাই থাকুক টাকা আর অসৎ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে।আমার জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি সব দেশেই একই চিত্র তার উদাহরণ স্বরূপ কিছু কথা গবেষণামূলক চরিত্রে তুলে ধরব ভারত বর্ষ তথা বাংলাদেশ জুড়ে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিশীল মানুষ কিংবা লেখক’রা সবকালেই যেন সৃজনশীল লেখা জনসাধারণের নিকট নান্দনিক রূপেই হাজির করেছে। কিন্তু এই লেখকেরা তাদের জীবদ্দশায় আর্থিক অনটনেও ভুগেছে। উদাহরণ স্বরূপ, আমি নিজেই উপলব্ধি করছি,শুধু এইটুকু বলে শেষ করতে চাইনা এই লেখাটা। পাশ্চাত্যের গি দ্য মোপাসাঁ, ফিওদর মিখাইলোভিচ দস্তয়েভস্কির সহ প্রাচ্যের নজরুল, শরৎচন্দ্র বা জীবনানন্দের অদ্ভূত এক দারিদ্র্য তার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু, কালে কালে পাশ্চাত্যের লেখকসমাজের আর্থিক সংকট অনেকাংশে  দূর হয়েছে। সেখানে অনেক দেশেই লেখা লেখিটা পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আর আমাদের দেশে সৎ ও নিষ্ঠাবান লেখক-সাংবাদিক কবিদের আজব মূল্য দেয় না , তারা মূল্য পাবে সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি বলা চলে না। তবে এ লেখা লেখির জগতে এখন ‘তরুণ প্রজন্মরা’ অনেকেই যেন আগ্রহ নিয়ে কাজ করছে। সুতরাং লেখালেখি এদেশের এমন একটি পেশা যেখানে উপার্জনের সম্ভাবনা প্রায় নেই। তবে যারা লেখা লেখি ভালো বাসে প্রানের তাগিদেই লিখে থাকে, অর্থের লালসায় নয়। বিকল্প উদাহরণ ছাড়া এ কথাটি আজকে জেনেবুঝেই বলছি। কেনো যেনো আজ হঠাৎ করে মনে হলো আমাদের দেশের সাংবাদিক ও পাঠকদের একটা গল্প শোনাবো। বাংলাদেশে সহ আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে ‘সংবাদ পত্র এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে’ সমৃদ্ধ হয়েছে। বলাটা বাহুল্য হবে কতটা যে নিয়মিত অনিয়মিত দৈনিক, সাপ্তাহিক ও ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন পত্রিকাসমূহ এ দেশের জনগণের ইয়াত্তা নেই। আর ‘জাতীয় দৈনিক ও ইলেক্ট্রনিক’ মিডিয়া সংখ্যা গুনে বলা সম্ভব না। এই গুলো মিডিয়ার প্রায় সকলেরই যেন স্থানীয় প্রতিনিধি রয়েছে। মিডিয়ার জন্মহার বৃদ্ধির সাথে সাথেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে সাংবাদিক। কিন্তু, নাম মাত্র তারা সাংবাদিক, তাদেরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। তাদের মধ্যে কেউ যদি পারিশ্রমিক পায় সেইটা যেন তাদের সৌভাগ্য।তারা বিশেষ কিছু কারণে তাদের সৃজনশীল চেষ্টার বার বার বাধাগ্রস্ত করে বেশকিছু অসাধু মানুষ। এই বিষয়টি নিয়েই মূলত লিখার চেষ্টা করছি। প্রথমত আজ থেকেই ৪০ বছর আগে যখন এতো আধুনিক ব্যবস্থা যোগাযোগ ছিল না, তখনও সাংবাদিক ছিল, সংবাদপত্রও ছিল।

এ ধারণার সা়ংবাদিকরা কাজেকর্মে খুবই দক্ষ ছিল। শুধুই সা়ংবাদিকদের নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যটা হলো, এমন জগতে কিছু অসাধু মানুষের ক্রাইম করার প্রবনতা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আগেরযুগে তারা চেষ্টাকে মূখ্য করে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নেই সত্য লেখা প্রকাশ করে যথাযত ভাবে কাজ করতো। তাদের নিজের স্থানীয় ”সংবাদপত্র” গুলো ছিল একধরনের ‘পাঠশালা’। সেইখনেই তারা কর্ম করে বা পাঠ গ্রহন করে বাইসাইকেল ও পায়ে হেঁটে যেন যোগাযোগ করতো। তখনো কোনো সাংবাদিকরা বেতন পায় এটা কেউ ধারনা করতো না। আর সত্য কথা হলো, সাংবাদিকরা পেশা জগতে থাকলে বিয়ের জন্যে “পাত্রী পাওয়া” কঠিন ছিল। সেই সময়েই যারা পরিশ্রম করেছে তাদের মধ্যে অনেকে এখনো এমন পেশায় আছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য ২০২০ সালে এসে তারা ভয়াবহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেক সুদক্ষ সাংবাদিকরা চীর বিদায় নিয়েছে। তাদের কাছে আমাদের অনেক শিক্ষার নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাদের লেখা ধ্যান ধারনা সাহস সংবাদ নির্বাচন ছিল ভিন্ন ধরনের। এখনকার এই যুগের সাংবাদিকদের নিকট ”রূপকথার গল্প” মনে হতেই পারে। এযুগের ভাগ্যবান লেখক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিকগণরা হয়তোবা বলবে যে আমাদের দেশের লেখকদের কোন সমস্যা নেই তবে বাংলাদেশের উপরে আঙ্গুল তুলতে পারে কেন জানেন?- প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ লিখেই তো সফলতা অর্জন সহ বহুত অর্থ উপার্জন করেছে, অথবা অন্য দু’একজন ‘লেখক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিকের নাম’ উচ্চারণ করে বলতে পারে, এখনও ক্লান্তিহীনভাবেই তো তারা লিখে চলে। অবশ্যই এ গুলো দু’একটা উদাহরণটা ব্যতিক্রম। কিন্তু এটাও মনে রাখতেই হবে যে,- ‘ব্যতিক্রম উদাহরণ দিয়ে সামাজিক রূপ ফুটে ওঠে না’। তবে তারা কষ্টকে আড়াল করে, লেখাটাকেই পেশা হিসাবেই বেছে নিয়েছে, এটাই সত্য। বলা যায় তারা আমাদের আইডল বা দিকনির্দেশনার পাথেও। আর তরুণপ্রজন্মের হাজার হাজার লেখকদের অনুপ্রেরণার অগ্রদূত।তবে আমি ব্যক্তিগতভাবেই লিখে যাচ্ছি কিন্তু টাকার প্রত্যাশা না করলেও কিছু টাকাপয়সা দিলে কারনা ভালো লাগে, আমি ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য সহ বাংলাদেশ, নেপাল জাপান, আমেরিকার দেশের বিভিন্ন ভাষার পত্রপত্রিকাতে লেখার চেষ্টা করি সেটা এক কথায় আন্তর্জাতিক স্তরে লেখক হিসাবে।তাও আমার দেশের মানুষ আমাকে হেয় করে, আমার পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতায় রেখেছে। আমার কলমকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে দেশের মানুষ। কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে থাকব এই কলমকে রোধ করার ক্ষমতা ঈশ্বর ছাড়া আর কারো নেই।এরপরে নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা সমাজ বিরোধিতা উল্টে আমার পরিবারের কাছে বিগত দিনে টাকার দাবি করেছিল।এই তো দেখা যায়, উল্টো আমাদের কাছেই চায়। তাই বলি-  ১৬ বছরের লেখা লেখির জগতে আজ অনেকটাই ক্লান্ত তবুও লেখার জগত থেকে পিছপা হইনি। আগে সাংবাদিকতার গুনগত পরিবর্তন এতোটা খারাপ ছিল না। বেশ ক’টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ হতো তাদের যেন আদর্শ ছিল। ‘সনাতন মূদ্রণ’ পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়ে কম্পিউটার অর্থাৎ ডিজিটালযুগে প্রবেশ করে যেন শুরু হয়েছে সব ঝামেলা।

আরও পড়ুন : নোংরা রাজনীতিতে কলঙ্কিত হচ্ছে বাংলার ইতিহাস

কিছু সাংবাদিক স্থানীয়ভাবেই স্বল্প পারিশ্রমিক পেতে শুরু করলেও এখন সেটাও বন্ধ করা জন্য প্যাইতারা চালায়। এমন নতুন প্রযুক্তির সাথে মেধা সম্পন্ন সাংবাদিকরা নিজেদের সমন্বয় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তাদের পেশাদারিত্বের প্রতিও অবহেলা বাড়ছে। বেশকিছু নতুন সাংবাদিকরা পেশায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তারা আজকে মানুষের দ্বারেই ক্রাইম করছে। সত্য কথা এমন ভাবে বলার সৎ সাহসটাও সাংবাদিকদের নেই। যারা না কি এখনো দাপটের সঙ্গেই পেশায় আছে তারা মিডিয়ার বিস্ফরন ঘটানোর জন্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এর দ্বারস্ত হচ্ছে।সাংবাদিকতায় এই ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয় প্রিন্ট আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মধ্যে। বলা যায় যে স্থীর ক্যামেরা হাতের সাংবাদিকের হাতে চলে আসে “চলমান ক্যামেরা”, ৩০-৩৫ ফ্লিল্ম দুনিয়া সমাপ্ত হয়ে এখন- ডিজিটাল ক্যামেরায় পদার্পন। খরচ কমে যায়, সাংবাদিকরা পায়ে হাটা আর বাইসাইকেল ভুলেই গাড়ী আর মটরসাইকেল আর মোবাইল ফোন ইন্টারনেট জগতে ঢুকে পড়ে। আবারও বলি ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারে না।লেখকের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণেই শেষ বয়সে উন্নত চিকিৎসার জন্যেই পত্রিকা’র পাতায় সাহায্যের আবেদন দাঁড় করাতে হয়। এই দেশের লেখক, কবি, কলামিষ্ট ও সাংবাদিকদের এটাই নিয়তি। তারা আমৃত্যু স্বাধীনচেতা মানসিকতায় কেন এ বাংলার জমিনে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু হারিয়ে ফেলে। তারা ‘মনের গহীনে গোপন ভাগ্যের অধীনস্থ’ হবে। এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেশায় পেশাদার হওয়া মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেলেও ভাগ্যের উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ভাবা উচিত। সুতরাং তারা যোগ্যতার মানদন্ড আর ধরে রাখা যায় না। তাই- লেখক, কবি, কলামিষ্ট কি়ংবা সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি’রা প্রয়োজনের তাগিদে তাদের সৃজনশীল লেখালেখি পাঠকদের কাছে উপস্থাপনে যেন ব্যর্থ হয়। তবে বর্তমান প্রজন্মের বেশকিছু লেখক, কবি, কলামিষ্ট এবং সাংবাদিকরা বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে তারা সবাই যে অযোগ্য কিংবা হতদরিদ্র নয়। বেশ কিছু ট্যালেন্ট লেখক, কবি, কলামিষ্ট ও সাংবাদিক দেখা যায় যারা স্বশিক্ষিত হয়ে দক্ষতার সাথেই কাজ করছে। তারা চেষ্টা করছে নিজেকে যোগ্য হিসেবে দাঁড় করবার জন্য।

তবেই অতীতের সময় থেকে এই মূহুর্ত পর্যন্ত ক্রমে ক্রমেই যেন আধুনিকতায় প্রবেশ করেছে, সুযোগ সন্ধানী বেশ কিছু সাংবাদিকরা। অবশ্যই বুকটা ভরে যায়, যখন দেখি এই সাংবাদিকরা ঐ জায়গার সাংবাদিক হয়ে নানা চ্যানেলে লাইভ সংবাদে ক্যামেরার সামনে দাড়িয়েই তথ্য বিলিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে বসেই তারা যেন ভবিষ্যত দেখতে পান, ভালোই লাগে, অথচ এ দেশের কোনো লেখক দৃঢ় কণ্ঠে বলতেই পারবেন না, পত্রিকা গুলোর করুন দশায় এসে দাঁড়িয়েছে। উপযুক্ত সম্মানী ও প্রকাশক করবার কিছুটা ঝামেলা থেকে রেহাই পেতেছে। আর একটা কথা, এখন যারা সা়ংবাদিকতায় ভাল কাজ করবার জন্যে খুব চেষ্টা করছে। তারা শেখার আগেই যেন তেষ্টা মেটানোর দিকে বেশি ঝুকে পড়ছে। সুতরাং, তাড়াতাড়ি স্মার্ট ফোন আর কত বেতন হবে এইসব কথা আগেই শর্ত দিয়ে ফেলছে। শিখলে, জানলে, বুঝলে, পারলে এইসব সুবিধা আপনা আপনি এসে যাবে। নিজের মান বৃদ্ধিটাই জরুরি বিষয়। অভাবে থেকে বাহাদুরি নয়, নতুন কিছু করার চেষ্টাতেই প্রস্তুত হই। নতুন কিছুর পরিবর্তন এনে ‘আবিস্কার করি’। সুতরাং অভাবে স্বভাব নষ্ট না করে এমন সা়ংবাদিকতার পেশাটাকে ‘পরিচ্ছন্ন রাখি’। বর্তমানে এই সা়ংবাদিকতায় তরুণপ্রজন্মের অনেক জায়গা এখনো খালি আছে। এই দেশে প্রকাশনা শিল্পটাকে সমৃদ্ধ করি। লেখালেখি পেশা নেশা করি। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো খুব হতাশাজনক। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর সূত্রমতে, ১৯৯২ সাল থেকে, হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩০০-র বেশি সাংবাদিক। এর মধ্যে ৭০০-রও বেশি ক্ষেত্রে এই হত্যার কোনো বিচার হয়নি। হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আর এখন, বিশ্বজুড়ে ২৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিক আছেন কারাবন্দী। সেটিও এমন কাজ করতে গিয়ে, যা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই বিবেচনা করা হয় রুটিন রিপোর্টিং হিসেবে।আর এই পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্যউপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে হামলা ও হত্যা; রেকর্ড পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : মুসলিমদের দলে ভেড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে টানাটানিও অব্যাহত

ম্যারি কোলভিন বা ড্যানিয়েল পার্লের মতো হাই প্রোফাইল পশ্চিমা সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত সাংবাদিকরা স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করছেন। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো হিমবাহের ওপরের অংশটুকু মাত্র। এর বাইরে মারধর, অপহরন, কারাবন্দী এবং আরো অনেক ধরনের হুমকির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এগুলোও সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।হুমকিগুলো অনেক দিক থেকে আসে। মাদক ব্যবসার গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী গ্রুপ; স্বৈরশাসক বা জাতিগত বিদ্বেষ; বুলেট অথবা সন্ত্রাসীদের বোমা; অনেক কিছুর মধ্যেই পড়তে হয় সাংবাদিকদের। একেক জায়গায় হুমকি-নিপীড়নের ধরন একেক রকম। ফলে “একক বা সহজ সমাধান” জাতীয় কিছু নেই।এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে বেশ কিছু পেশাজীবী সংগঠন এবং বড় কিছু বহুমাত্রিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যাদের মধ্যে আছে জাতিসংঘ এবং অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ।গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের রিসোর্স পেজ সিরিজের অংশ হিসেবে, আমরা প্রকাশ করছি সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই গাইড। শুরুতেই থাকছে এ বিষয়ে এরিমধ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ গাইড আছে, সেগুলোর লিংক। এরপর থাকছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রধান কিছু আন্তর্জাতিক গ্রুপের লিংক, যারা কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর সহিংস হামলা নিয়ে কাজ করে।নিরাপদ থাকা এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি কাভারের গাইড কমিটি ফর দ্য প্রটেকশন অব জার্নালিস্টস সেফটি কিট: ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে সিপিজে-র চার পর্বের এই সুরক্ষা গাইড। এখানে শারিরীক, ডিজিটাল, মানসিক সুরক্ষার রিসোর্স ও টুলস সম্পর্কে মৌলিক কিছু তথ্য রয়েছে সাংবাদিক ও নিউজরুমগুলোর জন্য। এছাড়াও, সিপিজে প্রকাশ করেছে সুরক্ষা সংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন। যেমন ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ফিজিক্যাল সেফটি: সলো রিপোর্টিং এবং ফিজিক্যাল সেফটি: মিটিগেটিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স। দেখতে পারেন সিপিজে-র ইউএস ইলেকশন ২০২০: জার্নালিস্ট সেফটি কিট।সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্র্যাকটিক্যাল গাইড। ২০১৭ সালে এটি হালনাগাদ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার ও ইউনেসকো। পাওয়া যাচ্ছে ইংরেজি, ফরাসী, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষায়।বিক্ষোভ কাভার করার জন্য নিরাপত্তা ম্যানুয়াল তৈরি করেছে আবরাজি (দ্য ব্রাজিলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।) পুরো ম্যানুয়ালটি এখানে পাবেন ইংরেজিতে।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা: ২০১৫ সালে এই গাইডলাইনটি তৈরি করেছিল বড় কিছু কোম্পানি ও সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জোট। এটি পরবর্তীতে অনুবাদ করা হয়েছে সাতটি ভাষায়।নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত হ্যান্ডবুক। ২০১৭ সালে ৯৫ পৃষ্ঠার এই গাইডটি তৈরি করেছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ওমেন ইন রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা নারী সাংবাদিকদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকি নির্ধারণ, অনলাইন নিপীড়ন ও ভ্রমন সংক্রান্ত সুরক্ষা বিষয়ে আলাদা অধ্যায় আছে এই গাইডটিতে।অনলাইনে সাংবাদিকদের হয়রানি: ট্রোল বাহিনীর আক্রমণ: সাংবাদিকদের জন্য বিপজ্জনক বিষয়গুলো চিহ্নিত করা ও তাদের সাহায্য দিতে ১২টি কার্যালয়ের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়, ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর জন্য। সরকার, আন্তর্জাতিক সংগঠন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সংবাদমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনদাতারা কিভাবে এসব ক্ষতিকর অনলাইন প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সেজন্য ২০১৮ সালে ২৫টি পরামর্শ হাজির করেছে আরএসএফ। দেখুন জিআইজেএন-এর সারসংক্ষেপ।সংবাদমাধ্যমগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্ব-মূল্যায়ন। এটি এসিওএস অ্যালায়েন্সের একটি টুল। যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত চর্চা ও প্রোটোকল যাচাই করতে পারে এবং সেটি আরো উন্নত করতে পারে। এসিওএস অ্যালায়েন্স বিভিন্ন সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের একটি জোট। ২০১৯ সালের এই স্ব-মূল্যায়ন টুলটিতে আছে “কিছু প্রধান প্রশ্ন ও গাইডলাইন। যা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং সেগুলো কার্যকরী ও বাস্তবসম্মতভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে অনুপ্রাণিত করবে।” (স্ব-মূল্যায়নের টুলটি এখানে পাবেন ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায়।)

সেফ+সিকিউর ২০১৯ সালে প্রকাশ করেছে একটি হ্যান্ডবুক ও ইস্যু-কেন্দ্রিক চেকলিস্ট। তথ্যচিত্র নির্মাতাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেরা কিছু রিসোর্সের খবর আছে এখানে। একই সঙ্গে আছে এ বিষয়ে আরো তথ্য বা প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যাবে, সেই খোঁজও।হয়রানি-হেনস্তার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের জন্য আইপিআইয়ের ৫ পরামর্শ। ২০২০ সালে এই প্রবন্ধটি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট। অনলাইনে হয়রানির শিকার হওয়া সাংবাদিকদের কিভাবে সাহায্য-সমর্থন দেওয়া যায়, তা নিয়ে নিউজরুমগুলোর জন্য প্রোটোকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। অনলাইনে হয়রানি বিষয়ে অন্যান্য রিসোর্সও তৈরি করেছে আইপিআই।

অনলাইন হয়রানির ফিল্ড ম্যানুয়াল। ২০১৭ সালে এটি তৈরি করেছে পেন আমেরিকা। “লেখক, সাংবাদিক, তাদের মিত্র এবং চাকরিদাতারা কিভাবে অনলাইনে বিদ্বেষ ও হয়রানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন, তার কার্যকরী কিছু কৌশল ও রিসোর্সের” হদিশ রয়েছে এখানে।


Related Articles

Back to top button