
তাঁদের মধ্যেকার প্রেমের সম্পর্ক গ্রামের কারোর অজানা ছিল না। দুইজনকেই সকালে যেমন মর্নিংওয়ালে একসঙ্গে দেখা যেত, তেমনি বিকালে একসঙ্গে গল্প করতেও দেখা যেত। সেই তাঁরাই বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। সকালে সেই যে দুইজনে মর্নিং ওয়াকে বার হয়, তারপর এর কেউই ঘরে ফেরেনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, বাড়ি থেকে পালিয়ে দুইজনে বিয়ে সেরে ফেলেছে।
ঝামেলার ভয়ে কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু কোনও আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। তার জেরেই শুক্রবার বিকালে দুইজনের বাড়ির লোকেরা যখন থানায় গিয়ে দুইজনের নিখোঁজের অভিযোগ লেখানোর তোড়জোর করছেন, ঠিক তখনই গ্রামেরই ভেতরে থাকা স্কুলের হস্টেল ঘর থেকে মিললো দুইজনের গলাপচা ঝুলন্ত দেহ। আর তার জেরেই ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। ঘটনাস্থল বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার মল্লারপুর থানার মহুলা গ্রাম। মৃত দুই যুগলের নাম ষষ্ঠী লেট ও প্রিয়া লেট।
জানা গিয়েছে, ষষ্ঠী ও প্রিয়া যে একে অপরকে ভালোবাসত তা দুই বাড়ির লোকেদেরই জানা ছিল। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ায় দুই বাড়ির লোকেরাই ভেবেছিল হয়তো বিয়ে করে কোথাও চলে গিয়েছে ষষ্ঠী আর প্রিয়া। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও খোঁজ না মেলায় শুক্রবার বিকালে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করার কথা ভেবেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তার মধ্যেই দু’জনের মৃত্যু সংবাদ পান।
মহুলা গ্রামেই রয়েছে ভেলিয়ান উচ্চ বিদ্যালয়। সঙ্গে হস্টেলও। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন স্কুল বন্ধ। হস্টেলের কেউ নেই। তবে, হস্টেলে দোতলায় একটি ঘর খোলাই ছিল। বিকেলে গ্রামের ছেলেরা খেলতে খেলতে সেই ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন ষষ্ঠী ও প্রিয়া ঝুলন্ত দেখতে পায় তারা। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিস। তবে প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনা কী আত্মহত্যা নাকি খুন? সিলিং ফ্যানের সঙ্গে একটি ওড়নায় দু’জনকে ঝুলতে দেখে অবশ্য অনেকেই মনে করছেন নিজেদের প্রেম বিয়ে অবধি গড়াবে না বুঝেই তাঁরা আত্মহত্যা করেছে।
সুত্র : এই মুহুর্তে



