মুর্শিদাবাদ

কুসংস্কারের বলি! ফের ওঝার ঝাঁড়ফুকে মৃত্যু সাপের ছোবল খাওয়া গৃহবধূর

মুর্শিদাবাদের সুতিতে কুসংস্কারের বলি হলেন সাপে কাটা এক মহিলা। ওই মহিলাকে সাপে ছোবল দিলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বদলে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। অবশেষে ওঝা নিদান দিলেন বিষ সম্পূর্ণ চলে গিয়েছে দেহ থেকে। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে আসার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ওই মহিলা।

রবিবার ভোরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি ১ ব্লকের বংশবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের আলুয়ানিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে আজবালা সরকার (৫৫) নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকাই কিছু কামড়ানোর ব্যাথা পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় তার। ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার হাতে সাপে কামড়ে দিয়েছে। তখনই এই ঘটনা পরিবারের লোকেদের কাছে জানান তিনি।

তবে সূত্রের খবর, পরিবারের লোকেরা তাঁকে চিকিত্‍সার জন্য হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে নজিতপুর গ্রামে জনৈক বাসুদেব নামে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। এরপর ওই ওঝা দীর্ঘক্ষণ ধরে আজবালাকে ঝাড়ফুঁক করেন। শুধু তাই নয়, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার আশ্বাসও দেন ওই ওঝা। তারপর আজবালাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন পরিবারের লোকজন।

আরো পড়ুন : বড় খবর : তৃণমূলে ফিরলেন শিখা মিত্র, বললেন ‘কখনও তৃণমূল ছাড়িনি’

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং ভোর রাতের দিকে তাঁর মুখ বেঁকে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

মৃত ওই মহিলার এক মেয়ে পাতানি সরকার বলেন, ‘মা যখন রাতে ঘুমোচ্ছিলেন তখন একটি সাপ তাকে কামরায়। মা ঘুমের মধ্যে মনে করেছিলেন মশা কামড়েছে। হাত দিয়ে ‘মশা’ মারতে গেলে সাপটি আবার মায়ের আঙুলে কামরায়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক রাতে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং আমাদের কাছে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মত টাকা পয়সাও ছিল না। তাই কয়েকজনের পরামর্শে মাকে এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ ঝাড়ফুঁক করার পর ওই ওঝা বলেন মায়ের শরীরে আর সাপের বিষ নেই। তারপর আমরা মাকে বাড়ি নিয়ে চলে আসি। আজ ভোর রাতে হঠাত্‍ই মায়ের মুখ বেঁকে যেতে শুরু করে এবং উনি ভুল বকতে থাকেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মায়ের মৃত্যু হয়।’

সূত্র: আজকাল

আরও পড়ুন ::

Back to top button