জানা-অজানা

ভালোবাসা কোনো বাধা মানে না

ভালোবাসা কোনো বাধা মানে না - West Bengal News 24

একাধারে ছিলেন ফরাসি প্রজাতন্ত্রের জেনারেল ও ইতালির রাজা। সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা সেনাপতি হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। নেপোলিয়নের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল প্রেম। তবে জীবনে ঠিক কতবার প্রেম এসেছিল সেটা অগণিত। স্বীকৃত বিয়ে এবং অস্বীকৃত সম্পর্ক এই সবকিছুতে মোট তিনজন নারীকে তার জীবনে বেশি দেখা যায়।

মেয়েদের নিয়ে নেপোলিয়নের ধারণা ছিল নারীরা কেবলই সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র। অথচ সেই নেপোলিয়নই প্রেমে পড়লেন দুই সন্তানের এক জননীর। জোসেফাইন নামের সেই নারী একাই রাজত্ব করে গেছেন নেপোলিয়নের হৃদয়ে। পরবর্তীতে নেপোলিয়ন বিয়ে করেন জোসেফাইনকে। নেপোলিয়ন আর জোসেফাইনের প্রেম ইতিহাসে আলাদা একটি স্থান দখল করে আছে।

প্রেমের সূত্রপাত হয় যখন ডাইরেক্টরি শাসনকর্তা কর্তৃক প্যারির নাগরিকদের বাড়ি তল্লাশি করার ভার আসে নেপোলিয়নের হাতে। উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তল্লাশি করে সেখান থেকে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা। নির্দেশ মতো কাজ শুরু করে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে নেপোলিয়নের অধীনস্থ সেনারা সব অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে নেয়। তখনই ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। ইউজিন নামের এক কিশোর বালক এসে হাজির হয় নেপোলিয়নের কাছে। ইউজিনের আবেদন তার বাবা আলেকজান্ডারের তরবারিটি ফেরত দিতে হবে। নেপোলিয়ন বালকের সাহস দেখে মুগ্ধ হয়ে তরবারিটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। বালকটির মা ‘রোজ’ ওরফে জোসেফাইন ছুটে এলেন নেপোলিয়নকে কৃতজ্ঞতা জানাতে।

আরও পড়ুন :: চাঁদে আছে গাছপালা ও প্রাণী! কিন্তু কীভাবে?

সুন্দরী রোজের সৌজন্যবোধ ও আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। সেই মুগ্ধতা রূপ নেয় বিয়েতে। দ্বিধা এড়িয়ে জোসেফাইন শেষ পর্যন্ত পরিণত হন নেপোলিয়নের প্রিয়তমা স্ত্রীতে। ১৭৯৬ সালের ৯ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। মজার ব্যাপার হলো নেপোলিয়নের বয়স তখন ২৬ আর জোসেফাইনের ৩২।

কিন্তু আচমকাই তাদের ভালোবাসায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলো। ১৮০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর হঠাৎই নেপোলিয়নের সঙ্গে জোসেফাইনের ডিভোর্স হয়ে যায়। ইতিহাসে এ নিয়েও দ্বিধা রয়েছে। একপক্ষের মতানুসারে জোসেফাইন আসলে বারাসের রক্ষিতা ছিলেন। বারাসের চাপেই নেপোলিয়নকে বিয়ে করেন তিনি। এই পক্ষের মতানুসারে জোসেফাইন বহুগামিতায় আসক্ত ছিলেন। ফলে নেপোলিয়ন যখন যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে ইতালিতে ব্যস্ত ছিলেন, জোসেফাইন তখন ফিরে যান পুরনো অভ্যাসে। তবে এর মধ্যে জোসেফাইন আর নেপোলিয়নের মধ্যে চিঠির আদান-প্রদান হতো ঠিকই।

নেপোলিয়ন শেষ পর্যন্ত সব সত্য জেনে যান এবং ডিভোর্সে বাধ্য হন। আবার আরেকটি মতানুসারে কেবলই সিংহাসন রক্ষা ও উত্তরাধিকারের জন্য তিনি জোসেফাইনকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন। কারণ নেপোলিয়ন জানতে পেরেছিলেন জোসেফাইন কখনো মা হতে পারবেন না। তবে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও আমৃত্যু দুজনকে দুজন প্রচণ্ড ভালোবেসে গেছেন। এত কিছুর মধ্যে নেপোলিয়নের ইতিহাসের পুরোটা জুড়ে কেবলই জোসেফাইন ছিলেন।

মন্তব্য করুন ..

আরও পড়ুন ::

Back to top button