
ঝাড়গ্রাম: দোলের দিনে বসন্ত উৎসবের নানা রঙে রঙিন হয়ে উঠল অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম। শান্তিনিকেতনের মতো দোলের দিনে ঝাড়গ্রামও পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
বৃহস্পতিবার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। শহরের মূল বসন্ত উৎসবটি হয় ঘোড়াধরা পার্কে। ওই উৎসবের মূল উদ্যোক্তা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত মাহাতো। তিনি জেলা বসন্ত উৎসবের সভাপতি। সেখানে সকাল থেকে কার্যত জনজোয়ার দেখা যায়। মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আবির ও গুলাল খেলায় মেতে ওঠেন তরুণ-তরুণীরা।
আরও পড়ুন :: সবুজ আবির আর মিষ্টির যুগলবন্দি
এছাড়াও জঙ্গলমহল উদ্যোগ ও আস্থা নামে দু’টি সংগঠনের যৌথ আয়োজনে শহরের বৈকালিক পার্কে বসন্ত হলুদ উৎসবেও যোগ দেন বহু মানুষ। ওই উৎসবের অন্যতম মুখ্য দায়িত্বে ছিলেন শহর যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি উজ্জ্বল পাত্র। সেখানে অবশ্য রাসায়নিক আবিরের পরিবর্তে হলুদ ও সর্ষের তেল ব্যবহার করা হয়। সেই কারণে উৎসবের নাম দেওয়া হয় বসন্ত হলুদ উৎসব। সেখানেও পরিবেশিত হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঝাড়গ্রাম গ্রামীণের বিভিন্ন অতিথিশালা ও গ্রামীণ হোম স্টে গুলির আয়োজনেও দোল উদযাপনের কর্মসূচি হয়েছে। কুটুমবাড়িতে হয় রং পরবর। নকাট গ্রামের চেতনা ইকো ভিলেজে হোম স্টেতেও পর্যটকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোলখেলার আয়োজন করা হয়। আয়োজনের মুখ্য দায়িত্বে ছিলেন ওই হোম স্টের কর্তা শুভাশিস দেবসিংহ। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজম-এর কর্ণধার সুমিত দত্ত।

জেলার বেশির ভাগ হোম স্টে ও অতিথিশালাগুলিতেও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগেও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটক অনিকেত চক্রবর্তী বলেন, ‘’২৫ বছর পরে ঝাড়গ্রামে এলাম। তখন এভাবে দোল উপলক্ষে বসন্ত উৎসব চেমন চোখে পড়ত না।
এখন তো এতগুলি বসন্ত উৎসব হওয়ার ফলে পর্যটকরা তাঁদের হোম স্টে অথবা অতিথিশালায় দোলের অনুষ্ঠান দেখার ও আবির খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামের বসন্ত উৎসবও যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’’



