পর্যটনরাজ্য

আগামী ১০ বছরে বাংলা যেখানে পৌঁছাবে, কেউ ছুঁতে পারবে না’: মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে বেকারত্বের হার ক্রমেই বেড়ে চলা নিয়ে বারবার বিরোধীরা তোপ দেগেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। বড় বড় ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদের চায়ের দোকান খুলতে দেখা গিয়েছে। চাকরির দাবীতে অনশন করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে চাকরিপ্রার্থীরা।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন যে রাজ্যে ৪০ লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রস্তাব এসেছে।

করোনার জেরে গত ২ বছর হয়নি বাণিজ্য সম্মেলন। এবার বাণিজ্য সম্মেলন করতে তিনি যে দৃঢ়বদ্ধ ছিলেন, আজ নিজের বক্তব্যে বুঝিয়ে দিলেন মমতা। তিনি বলেন, “বাণিজ্য সম্মেলন করা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, করোনার সময় বিদেশি প্রতিনিধিরা কেউ আসবেন না। আমি বললাম, সম্মেলন করতে হবে। মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে হবে”।

মমতা জানান যে দু’দিনের এই বাণিজ্য সম্মেলনে ৪২টি দেশের ৪৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “দেশ-বিদেশের এত প্রতিনিধির অংশ নেওয়াই বলে দিচ্ছে বাণিজ্য সম্মেলন সফল”।

আর এই সফল বাণিজ্য সম্মেলনের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়েই মমতা জানিয়েছেন যে এই বাণিজ্য সম্মেলন থেকে ৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

তিনি জানান, আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি প্রথমবার এই বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। আদানি গোষ্ঠী আগামী ১০ বছরে রাজ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। শিল্পের জন্য বাংলাই ডেস্টিনেশন বলে মন্তব্য করেন মমতা। তাঁর সংযোজন, “আগামী ১০ বছরে বাংলা যে জায়গায় পৌঁছাবে, কেউ ছুঁতে পারবে না”।

বিরোধীরা বারবার বেকারত্ব নিয়ে তাঁর সরকারকে আক্রমণ করে এসেছে। তবে গতকাল বাণিজ্য সম্মেলনে মমতা বলেন, “করোনার সময় দেশে যেখানে কর্মসংস্থান কমেছে, সেখানে রাজ্যে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে”।

আর আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে এই দু’দিনের বাণিজ্য সম্মেলন থেকেই ৪০ লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রস্তাব এসেছে। আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে দেড় কোটি কর্মসংস্থান হবে বলেও আশা রেখেছেন মমতা।

তৃণমূলের জমানায় এটি ষষ্ঠ বাণিজ্য সম্মেলন। বিরোধীদের কথায়, বাণিজ্য সম্মেলনের শেষে প্রত্যেকবার বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের কথা বলা হয়, কিন্তু তা কতটা আদৌ বাস্তবায়িত হয়, তা প্রকাশ করার দাবী তোলা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন ::

Back to top button