নাইট শিফটে মহিলা কর্মীদের সুরক্ষায় উদ্যোগ রাজ্যের, গাইডলাইনের খসড়া তৈরি নবান্নে
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাতের শিফটে কর্মরত মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইডলাইন প্রস্তুত করছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তর একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, “মহিলা কর্মীদের নাইট ডিউটি বাধ্যতামূলক নয়। যারা করতে আগ্রহী, তাঁদের থেকে সংস্থাকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।” পাশাপাশি আইটি, পরিবহণ, স্বাস্থ্য, পুলিশসহ যেসব বিভাগে মহিলারা রাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের মতামতও চাওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন আইটি সংস্থা ও কলসেন্টারে প্রচুর মহিলা কর্মী রাতের শিফটে কাজ করছেন। তাঁদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ‘আর জি কর কাণ্ডের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাইট শিফটে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন’। আদালতও রাজ্য সরকারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই খসড়া নীতিতে মোট ২২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, “রাতের সময় অফিসে যাতায়াতের নিরাপত্তার দায়িত্বও সংস্থাকেই নিতে হবে।” অফিসগামী মহিলা কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং, প্রশিক্ষিত মহিলা নিরাপত্তারক্ষী ও এমার্জেন্সি অ্যালার্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়কে নাইট শিফট হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক শিফটে ন্যূনতম ১০ জন বা মোট কর্মীর এক-তৃতীয়াংশ মহিলা কর্মী থাকা বাধ্যতামূলক। মহিলা কর্মীদের জন্য বিশ্রামাগার, ক্যান্টিন, অ্যাম্বুল্যান্স, সিসিটিভি সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিসে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ গ্রহণ কমিটি গঠন এবং ‘যৌন হেনস্তার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি’ প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
নবান্নের এক আধিকারিক জানান, “ওয়ার্কপ্লেসে নিরাপত্তার জরুরি নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝোলানো, স্থানীয় ভাষায় নিরাপত্তা নীতি ব্যাখ্যা ও কর্মীদের সচেতন করার বিষয়েও জোর দেওয়া হবে।” সেই সঙ্গে সংস্থাগুলিকেও নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ইন্টারনাল সেফটি রিভিউ কমিটি থাকতে হবে, যারা প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করে নিরাপত্তা মানদণ্ড পর্যালোচনা করবে। নিয়ম না মানলে “শ্রম আইন অনুযায়ী জরিমানা ও ছাড়পত্র বাতিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”



