রাজ্য

সরকারি নথি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নয়! মুখ্যসচিবের বিশেষ নির্দেশিকা জারি

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সরকারি নথি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নয়! মুখ্যসচিবের বিশেষ নির্দেশিকা জারি - West Bengal News 24

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল, যেখানে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট শেষ হওয়ার আগেই সরকারি নথি সংরক্ষণ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং এই নির্দেশকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সোমবার একটি বিশেষ নোটিস জারি করে জানিয়েছেন যে কোনও সরকারি দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা কাগজপত্র সরানো, নষ্ট করা বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং এই নির্দেশ রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক স্তরে প্রযোজ্য হবে বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নোটিসে আরও বলা হয়েছে যে কোনও নথি স্ক্যান করা, প্রিন্ট করা বা স্থানান্তর করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে প্রশাসনিক তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বা তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা যায়।

আরও পড়ুন :: গনি পরিবারের আধিপত্য পেরিয়ে নতুন সমীকরণ,সুজাপুরে তৃণমূলের বড় জয়

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারি নথি আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং কোনওরকম ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা থেকে বোঝা যায় যে প্রশাসন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

রাজ্যে আগামী ৬ মে পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট এবং তার পরেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, ফলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে প্রশাসনিক নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, কারণ সরকার পরিবর্তনের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কারণে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।

উল্লেখযোগ্য যে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে, যেখানে বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং রাজ্যের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র হিসেবেই এই ভবনটি ব্যবহৃত হয়।

একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং-এ এখনও কিছু দপ্তর কার্যকর রয়েছে এবং সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত আছে, ফলে এই দুই প্রশাসনিক কেন্দ্রেই নিরাপত্তা ও নথি সংরক্ষণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে জারি করা নির্দেশিকা শুধুমাত্র একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সময় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সম্ভাবনা কমানো যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের প্রাক্কালে এই ধরনের নির্দেশ জারি করা অস্বাভাবিক নয়, কারণ এই সময়ে প্রশাসনিক নথি ও তথ্যের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সেগুলির সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে, যাতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় কোনও তথ্যগত ঘাটতি বা সমস্যার সম্মুখীন না হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং বিভিন্ন দপ্তর কতটা তা মেনে চলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়, কারণ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন ::

Back to top button